ভারত-ইইউ মেগা ডিল: সস্তা হবে বিলাসদ্রব্য, খুলবে চাকরির দুয়ার; আপনার লাভ জানুন ১০ পয়েন্টে – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২৭ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হলো ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA)। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে সম্পন্ন হওয়া এই চুক্তি কেবল কূটনৈতিক জয় নয়, বরং সাধারণ ভারতীয়দের জীবনযাত্রায় বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ৯০ শতাংশ পণ্যের ওপর শুল্ক হ্রাস পাওয়ায় পকেটে টান কমবে আমজনতার, চাঙ্গা হবে অর্থনীতি।
এই মেগা চুক্তির ফলে আপনার জীবনে কী কী প্রভাব পড়তে চলেছে, দেখে নিন তার ১০টি মূল দিক:
১. বিশ্ববাজারে ভারতীয় পণ্যের জয়জয়কার: পোশাক, গয়না, চামড়া ও ফার্মাসিউটিক্যালস পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক কমছে। ফলে ইউরোপের বাজারে ভারতীয় পণ্যের চাহিদা কয়েক গুণ বাড়বে। ২০৩১ সালের মধ্যে রফতানি আয় ৫০ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।
২. কমবে বিদেশি গাড়ি ও যন্ত্রপাতির দাম: গাড়িপ্রেমীদের জন্য সুখবর! ইউরোপীয় গাড়ির ওপর আমদানি শুল্ক ধাপে ধাপে কমিয়ে মাত্র ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা হচ্ছে। এছাড়া শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত মেশিনারি ও রাসায়নিকের দামও একধাক্কায় অনেকটা কমবে।
৩. সস্তা হবে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম: ওষুধের ওপর ১১ শতাংশ এবং মেডিকেল যন্ত্রপাতির ওপর বড় অঙ্কের শুল্ক কমছে। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনা আরও সহজসাধ্য হবে।
৪. লক্ষ লক্ষ নতুন চাকরির সুযোগ: বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়বে কর্মসংস্থানে। উৎপাদন, সেমিকন্ডাক্টর ও অটোমোবাইল সেক্টরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লক্ষ লক্ষ ভারতীয় যুবক-যুবতীর চাকরির পথ প্রশস্ত হবে।
৫. বিদেশি বিনিয়োগের জোয়ার: জার্মানি, ফ্রান্স ও ইতালির মতো শক্তিশালী অর্থনীতির দেশগুলো এবার ভারতে বড়সড় বিনিয়োগ করতে চলেছে। এতে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্প নতুন গতি পাবে।
৬. পরিষেবা ক্ষেত্রে বড় লাফ: আইটি এবং ফিনটেক সংস্থাগুলোর জন্য ইউরোপের দরজা আরও সহজে খুলে যাবে। ভারতীয় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ও পেশাদারদের জন্য ইউরোপে কাজের সুযোগ বাড়বে।
৭. সবুজ প্রযুক্তিতে বিপুল অনুদান: পরিবেশ রক্ষায় ভারতের পাশে দাঁড়াচ্ছে ইইউ। গ্রিন এনার্জি ও দূষণমুক্ত প্রযুক্তির প্রসারে আগামী দু’বছরে ভারত ৫০০ মিলিয়ন ইউরো আর্থিক সহায়তা পাবে।
৮. সস্তা হবে বিলাসদ্রব্য: অলিভ অয়েল থেকে শুরু করে বিদেশি ওয়াইন, বিয়ার ও স্পিরিট— শুল্ক কমার ফলে এই সমস্ত পণ্যের দাম অনেকটাই কমতে চলেছে।
৯. প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টেক্কা: শুল্ক সুবিধা পাওয়ায় চিন বা ভিয়েতনামের তুলনায় ভারতীয় পণ্য ইউরোপে সস্তা হবে। ফলে বিশ্ববাজারে ভারত আরও শক্তিশালী প্রতিযোগী হিসেবে উঠে আসবে।
১০. সহজ হবে ব্যাংকিং ও শিপিং: পরিষেবা ক্ষেত্র সহজ হওয়ার ফলে ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যিক লেনদেন ও পণ্য পরিবহন হবে দ্রুত এবং সাশ্রয়ী।

