লেটেস্ট নিউজ

ভারত ও ইইউ-এর মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি: ট্রাম্পের ট্যারিফের পাল্টা জবাব – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে FTA ঘোষণা

ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন বিশ্ব বাণিজ্যে অস্থিরতা তৈরি করতে বিভিন্ন দেশকে ট্যারিফ বা শুল্কের হুমকি দিচ্ছেন, ঠিক সেই সময়ে ভারত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) ঘোষণা করেছে। একে ‘মাদার অফ অল ডিলস’ বা সব চুক্তির সেরা বলে অভিহিত করা হচ্ছে, যা ট্রাম্পের ট্যারিফ আক্রমণের একটি কার্যকর জবাব হিসেবে বিবেচিত।

গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা (২৭ জানুয়ারি ২০২৬)

দিল্লিতে আয়োজিত ১৬তম ভারত-ইইউ শীর্ষ সম্মেলনে বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল জানান যে, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে চলা আলোচনা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডের লেয়েন এই চুক্তিকে ‘মাদার অফ অল ডিলস’ বলে বর্ণনা করেছেন। এই চুক্তি উভয় পক্ষের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

এই চুক্তিতে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর চলতি বছরের শেষ নাগাদ হতে পারে এবং এটি আগামী বছর (২০২৭) থেকে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য দেশের সঙ্গে এই চুক্তি ভারতকে ৪৫ কোটি গ্রাহকের এক বিশাল বাজারে অবাধ প্রবেশের সুযোগ করে দেবে।

ট্রাম্পের ট্যারিফ প্রসঙ্গ

ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর ২৫% পর্যন্ত ট্যারিফ আরোপ করেছে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ৫০% পর্যন্ত শুল্ক বাড়ানোর হুমকি দিয়েছে। এর ফলে ভারতের টেক্সটাইল, গয়না এবং ফার্মাসিউটিক্যালস রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এই FTA মার্কিন ট্যারিফের ক্ষতি পুষিয়ে দেবে, কারণ ভারত এখন ইইউ বাজারে শুল্কমুক্ত বা স্বল্প শুল্কে পণ্য বিক্রি করতে পারবে। এই চুক্তি ভারতকে আমেরিকার ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং সাপ্লাই চেইনে বৈচিত্র্য আনতে সাহায্য করবে। যদিও মার্কিন কর্মকর্তারা এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে দাবি করেছেন যে, ইউরোপ পরোক্ষভাবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে অর্থায়ন করছে।

চুক্তির প্রধান সুবিধাগুলো

  • ৯০%-এর বেশি পণ্যে শুল্ক হ্রাস: পোশাক, ফার্মাসিউটিক্যালস, ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, আইটি পরিষেবা, পেট্রোলিয়াম পণ্য, ইস্পাত এবং যন্ত্রপাতির রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে।
  • বাণিজ্য বৃদ্ধি: ২০২৫ অর্থ বছরে ভারত-ইইউ বাণিজ্য ছিল ১৩৬.৫৩ বিলিয়ন ডলার (রপ্তানি ৭৫.৯ বিলিয়ন, আমদানি ৬০.৭ বিলিয়ন)। এই চুক্তি বাণিজ্যের গতি আরও ত্বরান্বিত করবে।
  • বিনিয়োগ বৃদ্ধি: এফডিআই (FDI) বৃদ্ধি পাবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং চীনের ওপর নির্ভরতা কমবে।
  • উৎপাদন খরচ হ্রাস: কাঁচামাল সস্তা হবে, যার ফলে ভারতীয় উৎপাদক এবং গ্রাহক উভয়ই উপকৃত হবেন।
  • গাড়ির ওপর শুল্ক হ্রাস: বিএমডব্লিউ, মার্সিডিজের মতো ইউরোপীয় গাড়ির ওপর শুল্ক ১১০% থেকে কমে ৪০% হতে পারে।

সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ

  • ক্ষুদ্র ভারতীয় শিল্পের ওপর চাপ: ইউরোপীয় কো ম্পা নিগুলো প্রযুক্তি ও অর্থায়নে অত্যন্ত শক্তিশালী, যা স্থানীয় উৎপাদকদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
  • সংবেদনশীল খাতের সুরক্ষা: ভারত ডেইরি এবং কৃষির মতো সংবেদনশীল খাতগুলোকে এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বাইরে রেখেছে, তাই কৃষকদের ওপর বড় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *