‘ভিক্ষা করতে লজ্জা করে, কিন্তু উপায় নেই’, খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে বিস্ফোরক পাক প্রধানমন্ত্রী – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ইসলামাবাদ: দেশের চরম আর্থিক সংকটের সামনে দাঁড়িয়ে এবার কার্যত আত্মসমর্পণ করলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। শুক্রবার শিল্পপতিদের এক সম্মেলনে যোগ দিয়ে তিনি সোজাসুজি স্বীকার করে নিলেন যে, বিদেশের দরজায় দরজায় ঋণের জন্য হাত পাততে গিয়ে তাঁর আত্মসম্মানে আঘাত লাগে। অত্যন্ত আক্ষেপের সুরে শেহবাজ বলেন, “দেশে-বিদেশে ঘুরে ভিক্ষা চাই, আমার খুব লজ্জা করে। কিন্তু দেশের যা পরিস্থিতি, তাতে মাথা নত করা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই।”
ঋণের জালে বন্দি পাকিস্তান
রপ্তানিকারকদের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় শেহবাজ জানান, গত কয়েক বছরে বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার কিছুটা বাড়লেও তার সিংহভাগই বন্ধু দেশগুলোর থেকে নেওয়া ঋণ। সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন দেশে সাহায্যের জন্য দৌড়ঝাঁপ করতে হচ্ছে তাঁকে। পাক প্রধানমন্ত্রীর দাবি, “যারা ঋণ নিতে যায়, তাদের মাথা নিচু করেই থাকতে হয়। অনেক সময় বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর অন্যায্য আবদারও আমাদের মুখ বুজে সহ্য করতে হয়।”
অর্থনীতির বেহাল দশা ও IMF-এর ভূমিকা
কোভিড পরবর্তী সময়ে ডলারের তুলনায় পাকিস্তানি টাকার দাম তলানিতে ঠেকেছে। আকাশছোঁয়া মুদ্রাস্ফীতি আর জ্বালানি সংকটে ধুঁকছে সাধারণ মানুষ। এই পরিস্থিতিতে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার (IMF) পাকিস্তানকে ১২০ কোটি ডলার ঋণ দিতে রাজি হয়েছে। যদিও ভারত এই ঋণদানের বিরোধিতা করেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের পক্ষেই সিদ্ধান্ত যায়। শেহবাজের আশা, এই ঋণের টাকা হাতে এলে দেশের ধুঁকতে থাকা অর্থনীতিতে কিছুটা প্রাণ ফিরবে।
কঠিন সিদ্ধান্তের পথে শেহবাজ
লজ্জা ও গ্লানির কথা স্বীকার করলেও, দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে তিনি একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছেন বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী। কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য দূরীকরণই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রীর এই ‘ভিক্ষা’ করার স্বীকারোক্তি আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
