ভূমিকম্পের আগাম পূর্বাভাস এবার আকাশে? বাতাসের স্তরেই লুকিয়ে ধ্বংসলীলার সংকেত! – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: ঘূর্ণিঝড় বা বৃষ্টির পূর্বাভাস এখন হাতের মুঠোয় থাকলেও, ভূমিকম্পের নিখুঁত হদিশ পাওয়া আজও বিজ্ঞানের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এই আসাম্ভবকেই সম্ভব করতে চলেছেন বিজ্ঞানীরা। মাটির গভীরের কম্পনের খবর এবার মিলতে পারে ভূপৃষ্ঠ থেকে ৬০ কিমি উপরের বায়ুমণ্ডলে, অর্থাৎ আয়নোস্ফিয়ারে।
আয়নোস্ফিয়ারে লুকিয়ে রহস্য
বিজ্ঞানীদের দাবি, বড় কোনো ভূমিকম্পের কয়েকদিন আগে থেকেই ভূগর্ভে প্রবল অস্থিরতা শুরু হয়। এর ফলে এক বিশেষ ধরনের শক্তি নির্গত হয় যা বায়ুমণ্ডলের আয়নোস্ফিয়ার স্তরে থাকা ‘মুক্ত ইলেকট্রনের ঘনত্ব’ (TEC) বদলে দেয়। ২০১৫ সালে নেপালের প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প কিংবা ২০২০ সালে তিব্বতের কম্পনের ঠিক আগেই আয়নোস্ফিয়ারে এমন অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করেছিলেন গবেষকরা।
কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
কলকাতার ‘ইন্ডিয়ান সেন্টার ফর স্পেস ফিজিক্স’ (ICSP)-এর কর্ণধার সন্দীপ চক্রবর্তী জানান, আয়নোস্ফিয়ারের এই ‘অ্যানোমালি’ বা অসঙ্গতি বিশ্লেষণ করেই ভূমিকম্পের পূর্বাভাস পাওয়া সম্ভব। গ্লোবাল নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম (GNSS)-এর সিগন্যাল ব্যবহার করে এই পরিবর্তন মাপা হয়। উত্তর-পূর্ব ভারতের মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র (NESAC)-এর বিজ্ঞানী গোপাল শর্মাও এই তত্ত্বে সায় দিয়েছেন।
আর্থিক সংকট ও ভবিষ্যৎ
ভারতে এই গবেষণা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথে প্রধান বাধা বিপুল খরচ। দেশজুড়ে পর্যাপ্ত রিসিভার বসানো বা এই কাজের জন্য বিশেষ কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠানো অত্যন্ত ব্যয়সাপেক্ষ। তবে আশার আলো একটাই, যদি এই প্রযুক্তি সফল হয়, তবে কয়েক দিন আগেই মিলবে ধ্বংসের সংকেত।
পূর্বাভাস কি যথেষ্ট?
অন্যদিকে, ভূতত্ত্ববিদ জ্ঞানরঞ্জন কয়ালের মতো বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু পূর্বাভাস দিলেই হবে না, জনবহুল শহর খালি করা প্রায় আসাম্ভব। তাই জাপানের মতো ভূমিকম্প-সহনশীল পরিকাঠামো তৈরির দিকেও সমান নজর দেওয়া প্রয়োজন।
