ভোটার তালিকায় এলাহি কাণ্ড! বাদ পড়লেন খোদ মুখ্যসচিব থেকে হেভিওয়েট বিধায়করাও – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
এসআইআরের রেজাল্ট আউট হতেই রাজ্যজুড়ে তীব্র শোরগোল। নির্বাচন কমিশনের তালিকায় যে বেনজির বিভ্রাট সামনে এসেছে, তাতে চক্ষু চড়কগাছ সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের। শনিবার প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় দেখা যাচ্ছে, রাজ্যের বর্তমান মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর নামও এখন ‘বিচারাধীন’ বা অ্যাডজুডিকেশন তালিকায়। বাদ যাননি আমডাঙার তিনবারের বিধায়ক রফিকুর রহমান কিংবা জয়নগরের প্রাক্তন সাংসদ তরুণ মণ্ডলও।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, বীরভূমের জেলা সভাধিপতি কাজল শেখ এবং তাঁর মায়ের নামও রয়েছে এই অনিশ্চিত তালিকায়। রাজ্যের প্রায় ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের ভাগ্য এখন ঝুলে রয়েছে আদালতের নির্দেশে নিযুক্ত বিচারকদের কলমের খোঁচায়। বিধানসভা নির্বাচনের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত চলবে এই ঝাড়াই-বাছাই প্রক্রিয়া, যা নিয়ে জেলায় জেলায় ক্ষোভের আগুন জ্বলছে।
নথিপত্র জমা দেওয়ার পরেও কেন এই হয়রানি, সেই প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক মহম্মদ সেলিম থেকে শুরু করে সাধারণ ভোটাররা। কোথাও শুনানি ছাড়াই নাম বাদ গিয়েছে, আবার কোথাও জীবিত ভোটারকে ‘মৃত’ ঘোষণা করে তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভবানীপুর থেকে সিঙ্গুর— সর্বত্রই কমিশনের এই ‘তুঘলকি’ ভূমিকার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দানা বাঁধছে।
যাঁদের নাম এই অ্যাডজুডিকেশন তালিকায় রয়েছে, তাঁদের ভোটদানের অধিকার শেষ পর্যন্ত থাকবে কি না, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশের আগে এই আইনি জট কতটা কাটানো সম্ভব হয়।

