ভোটার তালিকা নিয়ে মালদহে রণক্ষেত্র, ফের অবরুদ্ধ ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক

মালদহে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা কমছেই না। বুধবারের পর বৃহস্পতিবার সকালেও নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল পুরাতন মালদহ ব্লকের মঙ্গলবাড়ি এলাকা। এদিন সকাল থেকেই ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে রাস্তা আটকে চলায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা মোতায়েন রয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের দাবি, বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও অনেকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
এর আগে বুধবার কালিয়াচক ২ নম্বর ব্লকে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে নিযুক্ত সাত বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা ঘেরাও করে রাখে উত্তেজিত জনতা। আটকে পড়া আধিকারিকদের মধ্যে তিনজন মহিলাও ছিলেন। মধ্যরাতে পুলিশি পাহারায় তাঁদের উদ্ধার করার সময় পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। অভিযোগ উঠেছে, আধিকারিকদের কনভয় যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়ির ধাক্কায় আলম শেখ নামে এক ৩৭ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী যুবক গুরুতর জখম হন। বর্তমানে তিনি মালদহ মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন। যদিও পুলিশ লাঠিচার্জ বা ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বুধবার রাত ২টো নাগাদ দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টা পর জাতীয় সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছিল। প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছিল যে, চার দিনের মধ্যে বৈধ ভোটারদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তবে বৃহস্পতিবার সকালে ফের পুরাতন মালদহে বিক্ষোভ শুরু হওয়ায় প্রশাসনের চিন্তা বেড়েছে। বিশেষ করে এদিন মালদহের বৈষ্ণবনগরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী জনসভা থাকায় নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা জেলা। মোতায়েন করা হয়েছে গোয়েন্দা বিভাগের আধিকারিকদেরও। সুজাপুর ও মোথাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের পর এবার বিক্ষোভের আঁচ জেলার অন্যান্য প্রান্তেও ছড়িয়ে পড়ছে।
