ভোটের ইতিহাসে রেকর্ড, ১০০০ কো ম্পা নি কেন্দ্রীয় বাহিনী বাংলায় নজিরবিহীন নিরাপত্তার ব্লু প্রিন্ট কমিশনের

ভোটের ইতিহাসে রেকর্ড, ১০০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী বাংলায় নজিরবিহীন নিরাপত্তার ব্লু প্রিন্ট কমিশনের

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পশ্চিমবঙ্গে রেকর্ড সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রের খবর, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন পরিচালনার লক্ষ্যে রাজ্যে প্রায় ২.৪ লক্ষ কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF) মোতায়েন করা হচ্ছে। ভারতের নির্বাচনী ইতিহাসে কোনো একটি নির্দিষ্ট রাজ্যে নির্বাচনের নিরিখে বাহিনীর এই সংখ্যা সর্বোচ্চ। মূলত রাজ্যের ভোট-পরবর্তী হিংসার ইতিহাস এবং মালদহের সাম্প্রতিক সংবেদনশীল ঘটনাগুলোকে মাথায় রেখেই কমিশন এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

নিরাপত্তার এই ব্লু প্রিন্ট অনুযায়ী, কেবল ভোটের দিনই নয়, ভোট মেটার পরেও রাজ্যে বিশাল বাহিনী মোতায়েন থাকবে। আগামী ২৯ এপ্রিল শেষ দফার ভোট গ্রহণের পর ইভিএম, স্ট্রং রুম এবং গণনা কেন্দ্রের পাহারায় থাকবে ২০০ কো ম্পা নি কেন্দ্রীয় বাহিনী। এছাড়া, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আরও ৫০০ কো ম্পা নি বাহিনীকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রাজ্যে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মালদহ জেলায় বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের ঘেরাওয়ের ঘটনায় সুপ্রিম কোর্ট কড়া অবস্থান নেওয়ার পরই কমিশনের এই তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরপরই নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে রাজ্য প্রশাসনে বড়সড় রদবদল এনেছে কমিশন। সরিয়ে দেওয়া হয়েছে রাজ্যের মুখ্য সচিব, পুলিশ মহানির্দেশক (DGP), স্বরাষ্ট্র সচিব এবং কলকাতা পুলিশ কমিশনারের মতো শীর্ষ কর্তাদের। মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছেন, প্রলোভনমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করাই তাঁদের একমাত্র লক্ষ্য। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে যেখানে ৭২৫ কো ম্পা নি বাহিনী মোতায়েন ছিল, এবার তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। এমনকি জম্মু ও কাশ্মীরের সাম্প্রতিক নির্বাচনের তুলনায় বাংলার জন্য বরাদ্দ বাহিনীর পরিমাণ অনেক বেশি।

তবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর এই বিপুল সক্রিয়তা নিয়ে সরব হয়েছে শাসক দল। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে অভিযোগ করেছেন যে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজিরবিহীন অপব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, শাসক দলের ভোটারদের ভয় দেখাতে এবং একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের অনুকূলে প্রভাবিত করতে বাহিনীকে ব্যবহার করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, রেকর্ড বাহিনীর উপস্থিতি এবং রাজনৈতিক তরজায় ভোটের আগেই সরগরম হয়ে উঠেছে বাংলার রাজনীতি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *