মদ না খেয়েও পচে যাচ্ছে লিভার? এই ৫টি লক্ষণ অবহেলা করলেই বিপদ – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
মদ্যপান করেন না অথচ লিভারের সমস্যায় ভুগছেন? বর্তমান সময়ে মদ্যপায়ীদের তুলনায় সাধারণ মানুষের মধ্যেই নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (NAFLD) দ্রুত বাড়ছে। প্রাথমিক লক্ষণগুলো সামান্য হওয়ায় অনেকেই তা এড়িয়ে যান, যা পরে মারাত্মক আকার ধারণ করে।
লিভার নষ্ট হওয়ার আগাম সতর্কবার্তা
যদি আপনার শরীরে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন:
- সবসময় ক্লান্তি ও দুর্বলতা অনুভব করা।
- পেটের ডান দিকে ভারি ভাব বা ব্যথা।
- খিদে কমে যাওয়া এবং দ্রুত ওজন বেড়ে যাওয়া।
- গ্যাস, অম্বল ও বমি বমি ভাব।
- চোখ ও চামড়া হলুদ হয়ে যাওয়া (জন্ডিস)।
- গাঢ় রঙের প্রস্রাব এবং পায়ে ফোলাভাব।
মদ্যপান ছাড়াও কেন লিভার নষ্ট হয়?
গবেষণা বলছে, মদ্যপান ছাড়াও আধুনিক জীবনযাত্রার বেশ কিছু ভুল লিভারের বারোটা বাজাচ্ছে:
- ভুল খাদ্যাভ্যাস: অতিরিক্ত ভাজাভুজি, জাঙ্ক ফুড এবং প্রসেসড খাবার খাওয়া।
- শারীরিক পরিশ্রমের অভাব: ব্যায়াম না করা এবং স্থূলতা বা মেদ বৃদ্ধি।
- ওষুধের অপব্যবহার: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘকাল পেইনকিলার বা অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া।
- ইনফেকশন: দূষিত জল বা খাবার থেকে হওয়া ভাইরাল হেপাটাইটিস।
- অন্যান্য রোগ: অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, থাইরয়েড এবং উচ্চ রক্তচাপ।
কারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে?
যাঁদের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি এবং সারাদিন বসে কাজ করেন, তাঁদের লিভারের সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি প্রবল। এছাড়া বংশগতভাবে লিভারের রোগ থাকলেও সতর্ক থাকা জরুরি।
বাঁচার উপায় কী?
লিভার সুস্থ রাখতে আজই জীবনযাত্রায় বদল আনুন:
১. বাইরের খাবার বর্জন করে বাড়িতে তৈরি পুষ্টিকর ও সুষম খাবার খান।
২. প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা বা ব্যায়ামের অভ্যাস করুন।
৩. পর্যাপ্ত জল পান করুন এবং নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খান।
৪. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন এবং নিয়মিত লিভার ফাংশন টেস্ট (LFT) করান।
৫. মানসিক চাপ কমাতে যোগব্যায়াম বা ধ্যান করুন।
লিভার শরীরের পাওয়ার হাউস। এর সামান্য অবহেলা আপনার জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। সুস্থ থাকতে সচেতনতাই সেরা প্রতিকার।

