মধ্যপ্রাচ্যে মহাপ্রলয়! খামেনেইসহ ইরানের গোটা শীর্ষ নেতৃত্ব খতম, পালটা হামলায় কাঁপছে দুবাই-বাহরাইন – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এবার ঘটে গেল এক অবিশ্বাস্য ও নজিরবিহীন ঘটনা। আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ বিধ্বংসী হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেই সপরিবারে নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। শুধু খামেনেই নন, তাঁর বড় ছেলে মুস্তফা, কন্যা, জামাতা এবং নাতনিও এই ভয়াবহ আক্রমণের হাত থেকে রেহাই পাননি। এই ঘটনার পর কার্যত নেতৃত্বহীন হয়ে পড়েছে ইরান, যা পুরো আরব বিশ্বকে এক ভয়াবহ যুদ্ধের কিনারে ঠেলে দিয়েছে।
ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) সোশ্যাল মিডিয়ায় এই অভিযানের একটি রুদ্ধশ্বাস ভিডিও প্রকাশ করেছে। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, ইরান সরকারকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। এখন নির্দেশ অনুযায়ী অত্যন্ত দ্রুত ও চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আমেরিকার এই আগ্রাসী মেজাজে কার্যত কোণঠাসা তেহরান।
প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছে উপসাগরীয় দেশগুলো
নেতৃত্ব হারানোর শোকে এবং ক্ষোভে ইরান এখন হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে পালটা আঘাত শুরু করেছে। ইজরায়েলের পাশাপাশি কাতার, কুয়েত, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর মতো দেশগুলোর ওপর ঝাঁকে ঝাঁকে মিসাইল ছুড়ছে ইরান। রবিবার দুবাই এয়ারপোর্ট এবং বিশ্বের উচ্চতম ভবন বুর্জ খলিফাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিও ইরানের নিশানায় রয়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে আবু ধাবি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সোমবার পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
নিহত ইরানের সেনাপ্রধান ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী
সরকারি সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ (IRNA) নিশ্চিত করেছে যে, শনিবারের সেই ভয়াবহ হামলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অফ স্টাফ আব্দুল রহিম মুসাভি এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেও প্রাণ হারিয়েছেন। অর্থাৎ, এক লহমায় ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক—উভয় স্তম্ভই ধুলিসাৎ করে দিয়েছে আমেরিকা ও ইজরায়েল।
ট্রাম্পের চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার ফের কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরান যদি হামলা না থামায় তবে এবার এমন আক্রমণ চালানো হবে যা বিশ্ব আগে কখনো দেখেনি। ট্রাম্পের এই বার্তার পরপরই তেহরানের আকাশে ফের মার্কিন যুদ্ধবিমানের গর্জন শোনা গেছে। একাধিক জায়গায় বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠেছে ইরানের রাজধানী।
পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক আগ্নেয়গিরির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। যেকোনো মুহূর্তে এই সংঘাত বিশ্বযুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

