মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা, মাথায় হাত ভারতীয় রফতানিকারকদের! হু হু করে কমছে বাসমতী চালের দাম – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে বাড়তে থাকা চরম উত্তেজনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়ল ভারতীয় রান্নাঘরের অবিচ্ছেদ্য অংশ বাসমতী চালের বাজারে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ খামেইনির প্রয়াণ এবং ধারাবাহিক মিসাইল হামলার জেরে কার্যত স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে ভারতের চাল রফতানি বাণিজ্য। এই অনিশ্চয়তার মেঘ ঘনীভূত হতেই মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বাসমতী চালের দাম কুইন্টাল প্রতি ৫০০ টাকা পর্যন্ত কমে গিয়েছে।
থমকে গেল রফতানি, বন্দরে আটকে কয়েক হাজার টন চাল
ভারত থেকে বাসমতী চাল রফতানির ক্ষেত্রে ইরান অন্যতম প্রধান বাজার। বিশেষ করে হরিয়ানা থেকে উৎপাদিত সুগন্ধি চালের একটি বড় অংশই যায় মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং মার্কিন ও ইজরায়েলি হামলার জেরে ইরানের ‘বন্দর আব্বাস’ হয়ে আফগানিস্তান ও অন্যান্য দেশে চাল পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ থমকে গিয়েছে। চাল রফতানিকারক সমিতির রাজ্য ইউনিটের সভাপতি সুশীল কুমার জৈন জানিয়েছেন, পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে চালান পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে রফতানিকারকদের কোটি কোটি টাকার পেমেন্টও আটকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কেন দ্রুত কমছে চালের দাম?
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, রফতানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের জোগান হঠাৎ বেড়ে গিয়েছে। কর্ণালের চালকল মালিকদের দাবি, শনিবার যুদ্ধ পরিস্থিতি জটিল হওয়ার পর থেকেই বাজারে এর প্রভাব স্পষ্ট। একদিনের মধ্যেই বাসমতীর দাম কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত পড়ে গিয়েছে। রফতানিকারকরা জানাচ্ছেন, জাহাজের বিমা কভারেজ না মেলায় তারা বড় ধরনের ঝুঁকি নিতে পারছেন না। যদি যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে দাম আরও তলানিতে ঠেকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভারতের বড় বাজার এখন সংকটে
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরে ভারত থেকে প্রায় ৬ মিলিয়ন টন বাসমতী চাল বিদেশে রফতানি হয়েছে, যার মধ্যে একা ইরানেই গিয়েছে প্রায় ১ মিলিয়ন টন। সৌদি আরবের পর ইরানই ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাসমতী ক্রেতা। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ওমান, ইয়েমেন এবং ইরাকের মতো দেশগুলোও ভারতীয় চালের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের উত্তাপ বাসমতী বাণিজ্যের মেরুদণ্ড ভেঙে দিচ্ছে।
বিগত ২০২৫ সালের জুন মাসেও ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের সময় একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। তবে এবারের উত্তেজনা এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ভারতের কৃষিপণ্য রফতানি ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষত তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে মার্চ মাসের সমস্ত চালান অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে আছে, যা সামগ্রিকভাবে দেশের কৃষি অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিতে পারে।

