লেটেস্ট নিউজ

মমতা না কি শুভেন্দু পাল্লা ভারী কার? ভোটার তালিকায় বড়সড় চমক কমিশনের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গের হাই-ভোল্টেজ রাজনীতিতে ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রাম— এই দুটি কেন্দ্র সবসময়ই চর্চার কেন্দ্রে থাকে। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরের মাঠ ভবানীপুর, অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর গড় হিসেবে পরিচিত নন্দীগ্রাম। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত সর্বশেষ ভোটার তালিকার তথ্যে এই দুই কেন্দ্র নিয়ে উঠে এল চাঞ্চল্যকর কিছু পরিসংখ্যান। খসড়া তালিকার তুলনায় কোথাও ভোটারের সংখ্যা কমেছে, আবার কোথাও কিছুটা বেড়েছে।

ভবানীপুরে কমছে ভোটার সংখ্যা

কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরে ভোটারের সংখ্যা আগের চেয়ে কমেছে। গত ডিসেম্বর মাসে প্রকাশিত খসড়া তালিকায় এই কেন্দ্রে ভোটারের সংখ্যা ছিল ১ লক্ষ ৬১ হাজার ৫২৫ জন। কিন্তু শনিবার প্রকাশিত নতুন তালিকায় দেখা যাচ্ছে, সেখান থেকে ২,৩৪২ জনের নাম বাদ গিয়েছে এবং নতুন করে যুক্ত হয়েছে মাত্র ১৮ জন। ফলে বর্তমানে ভবানীপুরে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ৫৯ হাজার ২০১ জনে। উল্লেখ্য, গত বছরের খসড়া তালিকা প্রকাশের সময়ও এই কেন্দ্র থেকে প্রায় ৪৪ হাজার ভোটারের নাম কাটা গিয়েছিল।

নন্দীগ্রামে সামান্য স্বস্তি

অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারীর বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রামে ভোটার সংখ্যায় কিছুটা ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। গত ডিসেম্বরের খসড়া তালিকায় নন্দীগ্রামে ভোটার ছিলেন ২ লক্ষ ৬৭ হাজার ৬০৮ জন। নতুন তালিকায় ১,১৬৭ জন নতুন ভোটারের নাম যুক্ত হয়েছে এবং বাদ পড়েছেন ৩৯৭ জন। সব মিলিয়ে বর্তমানে নন্দীগ্রামের চূড়ান্ত তালিকায় নাম রয়েছে ২ লক্ষ ৬৮ হাজার ৩৭৮ জনের। অর্থাৎ খসড়া তালিকার তুলনায় এখানে ৭৭০ জন ভোটার বৃদ্ধি পেয়েছে।

‘অমীমাংসিত’ ভোটারদের নিয়ে ধোঁয়াশা

তবে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে যে, এখনই এই তালিকাকে সম্পূর্ণ চূড়ান্ত বলা যাচ্ছে না। কারণ প্রচুর সংখ্যক ভোটারের নথি যাচাইয়ের কাজ এখনও বাকি রয়েছে, যাদের তথ্য আপাতত ‘অমীমাংসিত’ বা পেন্ডিং ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে।

  • ভবানীপুর: এখানে এখনও ১৪ হাজার ১৫৪ জন ভোটারের ভাগ্য ঝুলে রয়েছে।
  • নন্দীগ্রাম: এই কেন্দ্রে ৮ হাজার ৮১৯ জন ভোটারের তথ্য যাচাই হওয়া বাকি।

পরবর্তীতে অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশিত হলে এই সংখ্যাগুলোতে আরও রদবদল ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজ্যের সামগ্রিক চিত্র

গত বছর অক্টোবর মাসে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শুরু করেছিল কমিশন। সেই সময় রাজ্যে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষেরও বেশি। গত ১৬ ডিসেম্বর খসড়া তালিকা প্রকাশের সময় প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়েছিল। শনিবারের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যজুড়ে আরও ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৩ জনের নাম আপাতত বাদ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এই স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়ার ফলে রাজনৈতিক সমীকরণ কতটা প্রভাবিত হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *