মরসুমের শুরুতেই বড় ধাক্কা, যুদ্ধের প্রভাবে ক্লোরিন সংকটে বন্ধের মুখে শহরের সুইমিং পুল

শহরে গরম পড়তেই সাঁতারের মরসুম শুরু হয়েছে, কিন্তু এবারের শুরুটা মোটেও স্বস্তিদায়ক হলো না। জল পরিশোধনের জন্য অপরিহার্য রাসায়নিক ক্লোরিনের জোগানে ব্যাপক ঘাটতি দেখা দেওয়ায় শহরের একাধিক সুইমিং পুল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সাধারণত মার্চ মাস থেকেই সাঁতারের প্রশিক্ষণ ও বিনোদনের সেশনগুলো শুরু হয়, তবে রাসায়নিকের এই তীব্র সংকটে মাথায় হাত পুল পরিচালকদের।
আন্তর্জাতিক অস্থিরতা ও বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ক্লোরিন-ভিত্তিক জীবাণুনাশকের আমদানিতে। পুল পরিচালকদের মতে, এই রাসায়নিক ছাড়া জল পরিষ্কার রাখা ও জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তা বজায় রাখা আসাম্ভব। ক্লোরিন জলে মিশে হাইপোক্লোরাস অ্যাসিড তৈরি করে, যা ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ও শ্যাওলা ধ্বংস করে। এই মৌলিক উপাদানের অভাবেই এখন পরিষেবা বন্ধ রাখার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে অনেক কর্তৃপক্ষকে।
এই সংকটের আবহে বাজারে কিছু অপরিচিত ও অদ্ভুত নামের রাসায়নিক নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। ‘ফুলসডিয়াম ক্লোরেট’, ‘ফ্যাটাস ম্যাক্সিমাস স্টেবিলাইজার’ বা ‘প্র্যাঙ্কিয়াম হাইড্রোক্সাইড’-এর মতো নামগুলো নিয়ে বিশেষজ্ঞরা সন্দিহান। তাঁদের মতে, এগুলির বাস্তব কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই এবং এগুলি অতিরঞ্জিত বা ভুয়ো তথ্যের অংশ হতে পারে। তাই ভুল রাসায়নিকের ব্যবহার এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।
এদিকে সরবরাহকারীরা সতর্ক করেছেন যে, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে ক্লোরিনের দাম আরও বাড়তে পারে, যার ফলে পুল পরিচালনার খরচও বৃদ্ধি পাবে। সাঁতারুদের মধ্যে হতাশা থাকলেও বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন এই সংকট সাময়িক। তবে নিরাপদ রাসায়নিকের উপস্থিতি নিশ্চিত না করে কোনোভাবেই পুলে নামা উচিত নয় বলে তাঁরা পরামর্শ দিয়েছেন। সঠিক সমাধানের অপেক্ষায় আপাতত অনিশ্চয়তার মুখে শহরের সাঁতার মরসুম।
