মহর্ষি দধীচি: কর্ণ বা রাজা বলি নন, এই মহর্ষিই হলেন শ্রেষ্ঠ দাতা – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
হিন্দু ধর্মশাস্ত্রে প্রাচীনকালের বহু দানবীরের বর্ণনা রয়েছে। সাধারণত দানবীর বললেই আমাদের মনে সবার আগে কর্ণ বা রাজা বলির নাম ভেসে ওঠে। সূর্যপুত্র কর্ণ এবং প্রহ্লাদের পৌত্র রাজা বলির ত্যাগের কাহিনী সর্বজনবিদিত। কিন্তু শাস্ত্র মতে, মহর্ষি দধীচির দানকে ‘মহাদান’ হিসেবে গণ্য করা হয়।
মহর্ষি দধীচির কাহিনী
মহর্ষি দধীচি ছিলেন ঋষি অথর্ব ও চিত্তির সন্তান। তিনি আজীবন শিবের উপাসনা এবং বেদ-শাস্ত্রে নিমগ্ন ছিলেন। তাঁর কঠোর তপস্যার তেজে ত্রিলোক আলোকিত হয়ে উঠেছিল, যা দেখে দেবরাজ ইন্দ্র ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়েন। ইন্দ্র তাঁর তপস্যা ভঙ্গ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এমনকি দধীচিকে হত্যা করতে গিয়ে ইন্দ্রের অস্ত্রশস্ত্র ঋষির তপস্যার কবচ ভেদ করতে পারেনি।
কেন তাঁর দান শ্রেষ্ঠ?
একসময় বৃত্রাসুর নামক এক অসুর স্বর্গ দখল করে দেবতাদের বিতাড়িত করে। ব্রহ্মদেব দেবতাদের জানান যে, যদি মহর্ষি দধীচি তাঁর অস্থির (হাড়) দান করেন, তবে সেই অস্থি দিয়ে তৈরি বজ্রের মাধ্যমেই বৃত্রাসুরকে বধ করা সম্ভব।
দেবরাজ ইন্দ্র যখন ইতস্তত বোধ করে দধীচির কাছে তাঁর অস্থি প্রার্থনা করেন, তখন লোকহিতৈষী মহর্ষি বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে মানব ও দেবজাতির কল্যাণে নিজের দেহত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি যোগবলে প্রাণত্যাগ করেন। তাঁর অস্থি থেকে তৈরি হয় অমোধ ‘বজ্র’, যা দিয়ে ইন্দ্র বৃত্রাসুরকে বিনাশ করে ত্রিলোককে মুক্ত করেন। নিজের প্রাণ বিসর্জন দিয়ে অস্থির দান করার কারণেই মহর্ষি দধীচিকে শ্রেষ্ঠ মহাদানী বলা হয়।

