মহা শিবরাত্রিতে মন্দির থেকে ফিরে ভুলেও করবেন না এই ৫টি কাজ – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, দেশজুড়ে পালিত হবে পবিত্র মহা শিবরাত্রি। দেবাদিদেব মহাদেবের আরাধনায় মগ্ন থাকবেন কোটি কোটি ভক্ত। নিষ্ঠাভরে উপবাস রাখা, শিবলিঙ্গে জল ও বেলপাতা অর্পণ এবং রাতভর জাগরণ— এই দিনটির প্রতিটি মুহূর্তই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে শাস্ত্র মতে, মন্দির থেকে পুজো দিয়ে ফেরার পর আমাদের কিছু বিশেষ নিয়ম মেনে চলা উচিত। অজান্তেই করা কিছু ভুল আপনার পুজোর পূর্ণ ফল প্রাপ্তিতে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
জেনে নিন শিব মন্দির থেকে ফেরার পর কোন ৫টি কাজ একদম করবেন না।
খালি হাতে ফিরবেন না
শিব মন্দির থেকে ফেরার সময় কখনও খালি হাতে ফিরতে নেই। মন্দিরে যে ঘটি বা পাত্রে করে জল বা দুধ নিয়ে গিয়েছিলেন, ফেরার সময় তাতে সামান্য শান্তিজল বা চরণামৃত নিয়ে আসুন। এছাড়া প্রসাদী ফুল বা বেলপাতা সাথে রাখা অত্যন্ত শুভ। মনে করা হয়, এটি বাড়িতে ইতিবাচক শক্তি এবং মহাদেবের আশীর্বাদ বয়ে আনে।
এসেই হাত-পা ধোবেন না
অনেকেই মন্দির থেকে ফিরেই তড়িঘড়ি হাত-পা ধুয়ে ফেলেন। কিন্তু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মন্দির থেকে ফেরার অব্যবহিত পরেই হাত-পা ধোয়া উচিত নয়। এতে মন্দিরের পবিত্র শক্তি বা পজিটিভ এনার্জি কমে যায়। বাড়িতে ফিরে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিন, ঠাকুরের স্মরণ করুন এবং তারপর হাত-পা ধুয়ে অন্য কাজে হাত দিন।
রাস্তায় প্রসাদ খাওয়া নিষিদ্ধ
মন্দির থেকে পাওয়া প্রসাদ অত্যন্ত পবিত্র। এটি রাস্তায় যেতে যেতে বা ফেরার পথেই খেয়ে ফেলা উচিত নয়। প্রসাদ সযত্নে বাড়িতে নিয়ে আসুন। প্রথমে বাড়ির ঠাকুরঘরে বা পবিত্র স্থানে তা রাখুন, এরপর পরিবারের সবার সঙ্গে মিলে ভক্তিভরে গ্রহণ করুন।
বিবাদ বা অশান্তি থেকে দূরে থাকুন
শিব আরাধনা মানেই মনের শান্তি। মন্দির থেকে ফেরার পর মন শান্ত রাখা জরুরি। বাড়িতে ফিরে কারো সাথে তর্কাতর্কি, রাগারাগি বা কোনো নেতিবাচক আলোচনায় জড়াবেন না। এই পবিত্র দিনে ঘরের পরিবেশ শান্ত ও আনন্দময় রাখলে মহাদেবের কৃপা বজায় থাকে।
সঙ্গে সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়বেন না
উপবাসের ক্লান্তি বা রাত জাগরণের কারণে অনেকেই মন্দির থেকে ফিরেই ঘুমিয়ে পড়েন। শাস্ত্র মতে, পুজো দিয়ে এসেই তৎক্ষণাৎ ঘুমানো অশুভ। ফেরার পর কিছুক্ষণ ইষ্টদেবতাকে স্মরণ করুন, বড়দের আশীর্বাদ নিন অথবা ধ্যান করুন। এতে পুজোর আধ্যাত্মিক সুফল বজায় থাকে এবং মনে প্রশান্তি আসে।
মহা শিবরাত্রির এই বিশেষ নিয়মগুলো মেনে চললে আপনার পুজো ও ব্রত সার্থক হবে এবং পরিবারে সুখ-সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পাবে।

