মাঝরাতে গ্রেফতার পাপ্পু যাদব, বাসভবনে ১০০ পুলিশকর্মী – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
বিহারের পূর্ণিয়ার লোকসভা সাংসদ রাজেশ রঞ্জন ওরফে পাপ্পু যাদবকে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) গভীর রাত ১২টা নাগাদ গ্রেফতার করেছে পাটনা পুলিশ। ৩১ বছরের পুরনো একটি মামলায় পাটনার বিশেষ আদালতের জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ওই মামলায় পাপ্পু যাদবসহ তিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে আদালত।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ১২টা নাগাদ পুলিশ বাহিনী মান্দিরি এলাকায় পাপ্পু যাদবের বাসভবনে পৌঁছায়। গ্রেফতারি প্রক্রিয়া চলাকালীন প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে সেখানে চরম উত্তেজনা বিরাজ করে। এর মধ্যেই পাপ্পু যাদব হঠাৎ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারান, যা দেখে তাঁর সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি কিছুক্ষণের জন্য উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার পর পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেয়। গ্রেফতারির সময় পাপ্পু যাদব জানান, মামলাটি সম্পর্কে তাঁর কাছে স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই। তিনি বলেন, “এটি ঠিক হচ্ছে না, আমার সাথে কী হবে তা বলা মুশকিল।”
গ্রেফতারের পর রাতেই তাঁকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ইন্দিরা গান্ধী ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (IGIMS)-এ নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, আজ (শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি) তাঁকে সংশ্লিষ্ট আদালতে পেশ করা হবে।
সাংসদকে গ্রেফতার করতে তাঁর বাসভবনে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। সিটি এসপির নেতৃত্বে ৫ জন ডিএসপি, ৬ জন থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক এবং প্রায় ১০০ জন পুলিশকর্মী অভিযানে অংশ নেন।
পাটনার সিটি এসপি ভানু প্রতাপ সিং জানান, মামলাটি ১৯৯৫ সালের। আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এর বিচার চলছে। ওই মামলায় সাংসদের আদালতে হাজিরা দেওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত দিনে তিনি উপস্থিত হননি। আদালতের নির্দেশ অমান্য করার কারণেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
কী এই ৩১ বছরের পুরনো মামলা?
বিবাদের সূত্রপাত ১৯৯৫ সালে। অভিযোগ অনুযায়ী, পাপ্পু যাদব পাটনার গর্দানিবাহ এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়েছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে সেটি দখল করে নেন। অভিযোগকারী বিনোদ বিহারী লালের দাবি, পাপ্পু যাদব ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যবহারের কথা বলে বাড়িটি নিলেও পরে সেটিকে রাজনৈতিক কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন। বাড়িওয়ালা বিষয়টি জানতে পারলে দু’পক্ষের মধ্যে বিবাদ শুরু হয় এবং গর্দানিবাহ থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়।
গর্দানিবাহ থানা মামলা নম্বর ৫৫২/১৯৯৫-এর অধীনে পাপ্পু যাদবের বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি, অবৈধ অনুপ্রবেশ, অপরাধমূলক হুমকি এবং ষড়যন্ত্রের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই মামলাটি এমপি-এমএলএ বিশেষ আদালতে বিচারাধীন ছিল।
আদালতের রেকর্ড অনুযায়ী, পাপ্পু যাদবকে একাধিকবার সমন পাঠিয়ে হাজিরা দিতে বলা হলেও তিনি উপস্থিত হননি। আদালতের নির্দেশ অবজ্ঞা করায় প্রথমে তাঁর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। সেই নির্দেশ মেনেই শুক্রবার মাঝরাতে অভিযানে নামে পাটনা পুলিশ।

