মাঝরাতে রণক্ষেত্র মুর্শিদাবাদ! মমতার বিস্ফোরক অভিযোগে কাঁপছে রাজনৈতিক ময়দান – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জে রাম নবমীর মিছিলকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ অশান্তি ও সংঘর্ষের ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। শুক্রবারের এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এখনও পর্যন্ত পুলিশ প্রায় ৩০ জনকে গ্রেফতার করেছে। এই ঘটনার রেশ এবার পৌঁছে গেল নির্বাচনী জনসভায়, যেখানে সরাসরি বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শনিবার রানিগঞ্জের সভা থেকে ক্ষোভ উগরে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং পরিকল্পিতভাবে ঘটানো ‘দাঙ্গা’। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দক্ষ পুলিশ আধিকারিকদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে যাতে গেরুয়া শিবির রাজ্যে অশান্তির পরিবেশ তৈরি করতে পারে। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না এবং জনগণই এর চূড়ান্ত বিচার করবে।
পাল্টা আক্রমণ শানাতে ছাড়েননি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন যে, নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট আধিকারিকদের বদলি করার ফলেই রাজ্যে দাঙ্গার প্রবণতা কমেছে। তবে যেকোনো ধরনের অশান্তিই অনভিপ্রেত বলে তিনি মন্তব্য করেন। অন্যদিকে, বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য এই ঘটনার পর রাজ্যে হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বড়সড় প্রশ্ন তুলেছেন। মুখ্যমন্ত্রী পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন, তাঁর প্রশাসনিক ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে কেন রাজ্যে এক প্রকার অঘোষিত ‘রাষ্ট্রপতি শাসন’ কায়েম করে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।
আপাতত রঘুনাথগঞ্জের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনী (CAPF) মোতায়েন করা হয়েছে। তবে নির্বাচনের মুখে রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিকদের গণবদলি এবং তার পরেই এই ধরনের সংবেদনশীল এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের বাদানুবাদ এখন তুঙ্গে।

