লেটেস্ট নিউজ

মাঝ আকাশে জন্ম নিলে শিশুর নাগরিকত্ব কোন দেশের? জানুন চমকপ্রদ আন্তর্জাতিক নিয়ম – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিমানে ভ্রমণের সময় মাঝ আকাশে শিশুর জন্ম হওয়া অত্যন্ত বিরল এক ঘটনা। তবে এমন পরিস্থিতিতে ওই নবজাতক কোন দেশের নাগরিক হবে এবং সে কী কী বিশেষ সুবিধা পাবে, তা নিয়ে রয়েছে বেশ কিছু জটিল ও আকর্ষণীয় আন্তর্জাতিক আইন। মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে এই নাগরিকত্ব নির্ধারিত হয়।

১. মাটির টান বনাম আকাশের সীমানা (Jus Soli)

আমেরিকা ও কানাডার মতো কিছু দেশ ‘জুস সোলি’ বা ভূমির অধিকার নীতি অনুসরণ করে। যদি কোনো আন্তর্জাতিক বিমান এই দেশগুলোর আকাশসীমা (Airspace) অতিক্রম করার সময় শিশুর জন্ম হয়, তবে শিশুটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই দেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার দাবিদার হতে পারে। এক্ষেত্রে বাবা-মা অন্য যেকোনো দেশের নাগরিক হলেও আইনি বাধা থাকে না।

২. রক্তের সম্পর্ক ও উত্তরাধিকার (Jus Sanguinis)

ভারতসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশ ‘জুস সাঙ্গুইনিস’ বা রক্তের সম্পর্কের নীতি মেনে চলে। এই নিয়ম অনুযায়ী, শিশু পৃথিবীর যেখানেই বা যে আকাশসীমাতেই জন্ম নিক না কেন, তার বাবা-মা যে দেশের নাগরিক, শিশুটিও সেই দেশেরই নাগরিকত্ব পাবে। অর্থাৎ, ভারতীয় দম্পতির সন্তান মাঝ আকাশে জন্মালে সে ভারতীয় হিসেবেই গণ্য হবে।

৩. বিমানের রেজিস্ট্রেশন ও আন্তর্জাতিক জলসীমা

যদি শিশুটি এমন এক জায়গায় জন্ম নেয় যেখানে কোনো নির্দিষ্ট দেশের আকাশসীমা নেই (যেমন সমুদ্রের ওপর), তবে ১৯৬১ সালের আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী নিয়ম ভিন্ন হয়। সেক্ষেত্রে বিমানটি যে দেশে নিবন্ধিত (Register), শিশুটি সেই দেশের মাটিতে জন্মেছে বলে ধরে নেওয়া হয় এবং সেই অনুযায়ী তার নাগরিকত্ব নির্ধারিত হয়।

আজীবন ফ্রি বিমান যাত্রা: সত্য না গুজব?

একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে, বিমানে জন্মালে ওই শিশু সারাজীবন বিনামূল্যে ভ্রমণ করতে পারে। তবে এটি মূলত একটি ‘মিথ’ বা গুজব। অধিকাংশ বিমান সংস্থা এমন কোনো সুবিধা দেয় না। তবে থাই এয়ারওয়েজ বা এয়ার এশিয়ার মতো কিছু সংস্থা অতীতে বিশেষ উপহার হিসেবে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বা আজীবনের জন্য এমন সুযোগ দিয়েছে, যা সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তের বিষয়।

তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ

মাঝ আকাশে প্রসবের ঘটনা ঘটলে বিমানের ক্যাপ্টেন তৎক্ষণাৎ নিকটস্থ এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে (ATC) অবহিত করেন। বিমানটি পরবর্তী যে বিমানবন্দরে অবতরণ করে, সেখানকার কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে শিশুর জন্মের প্রাথমিক নথি ও শংসাপত্র তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *