মাদ্রাসা যেন সন্ত্রাসবাদের আঁতুড়ঘর, সব বন্ধের দাবিতে এবার বিস্ফোরক নীতীশ রানে – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে আবারও ধর্মীয় মেরুকরণের পারদ তুঙ্গে। মালেগাঁও পুরসভা চত্বরে নমাজ পড়া নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের জেরে এবার সরাসরি মাদ্রাসা বিরোধী চরম অবস্থান নিলেন বিজেপি নেতা তথা ফড়ণবিস সরকারের ঘনিষ্ঠ বিধায়ক নীতীশ রানে। মাদ্রাসাকে ‘সন্ত্রাসবাদীদের আড্ডা’ বলে অভিহিত করে রাজ্যের সমস্ত মাদ্রাসা অবিলম্বে বন্ধ করে দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের কাছে দরবার করবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
নমাজ বিতর্ক ও সংবিধানের দোহাই
বুধবার বিধানসভা চত্বরে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নীতীশ রানে প্রশ্ন তোলেন, সরকারি দফতর বা পুরসভা চত্বরে নমাজ পড়ার অধিকার ভারতের সংবিধানে কোথায় দেওয়া হয়েছে? মালেগাঁও পুরসভা চত্বরে নমাজ পড়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগে এরা ‘জয় ভীম’ স্লোগান দেয়, কিন্তু জেতার পরেই বাবা সাহেব আম্বেদকরের তৈরি সংবিধানকে ভুলে যায়।” তাঁর সাফ প্রশ্ন, “নমাজ পড়ার জন্য কি সব মসজিদ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল যে সরকারি দফতরে তা করতে হবে?”
মাদ্রাসার বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ
মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আক্রমণ শানিয়ে নীতীশ রানে বলেন, মহারাষ্ট্রের মাদ্রাসাগুলি এখন কার্যত সন্ত্রাসবাদ তৈরির কারখানায় পরিণত হয়েছে। তাঁর দাবি, “মাদ্রাসাগুলোর কোনো প্রয়োজন নেই। এগুলো মূলত সন্ত্রাসবাদীরাই পরিচালনা করে। মহারাষ্ট্রের মাদ্রাসাগুলো এখন জেহাদিদের ডেরায় রূপান্তরিত হয়েছে। আমি খুব শীঘ্রই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে দাবি জানাব যাতে রাজ্যের সমস্ত মাদ্রাসা এক নিমেষে বন্ধ করে দেওয়া হয়।”
‘সবুজ সাপ’ ও গীতা পাঠের হুঁশিয়ারি
বিতর্কিত মন্তব্যের ধারা বজায় রেখে রানে আরও বলেন, “আমরা যদি এবার সরকারি জায়গায় গীতা পাঠ শুরু করি, তখন যেন এই সবুজ সাপগুলো কথা না বলে। আমরা স্কুলে ভগবদ গীতা পড়াব, মাদ্রাসার আবদার কেন সহ্য করব?” তিনি অভিযোগ করেন যে, একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে তোষণ করার রাজনীতি করতে গিয়ে সংবিধানকে অবমাননা করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে নীতীশ রানের এই মন্তব্য যে মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক আবহাওয়াকে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। বিরোধী দলগুলি ইতিমধ্যেই এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা শুরু করেছে, তবে রানে নিজের অবস্থানে অনড়।

