মায়ানমারে আবারও সামরিক শাসন, রাষ্ট্রপতি পদে শপথ নিলেন সেনাপ্রধান মিন আং লাইং

মায়ানমারে আবারও সামরিক শাসন, রাষ্ট্রপতি পদে শপথ নিলেন সেনাপ্রধান মিন আং লাইং

মায়ানমারের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। সংসদীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভের পর দেশটির নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করলেন সামরিক প্রধান মিন আং লাইং। শুক্রবার আয়োজিত এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে এক সময়ের কারাবন্দি প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি তথা নোবেলজয়ী নেত্রী আং সান সু কি-র উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্য তৈরি করেছে। এর ফলে দীর্ঘ অস্থিরতার পর প্রতিবেশী দেশটিতে আবারও সামরিক জুংটা সমর্থিত সরকার ক্ষমতা সুসংহত করল।

২০২১ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৎকালীন গণতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল মায়ানমার সেনাবাহিনী। সেই সময় আং সান সু কি-কে গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে এই নির্বাচনের স্বচ্ছতা এবং গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আগে থেকেই নানা সংশয় ছিল। জংটা সমর্থিত দলের বিপুল জয় সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।

রাষ্ট্রপতি পদের জন্য শুক্রবার মায়ানমার সংসদে মোট তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে সংসদে সামরিক জুংটার নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় মিন আং লাইংয়ের বিজয় ছিল কেবল সময়ের অপেক্ষা। ২০২১ সালের পর এই প্রথম দেশটিতে একটি পূর্ণাঙ্গ সরকার গঠিত হলো। কিন্তু সামরিক বাহিনীর হাতে পুনরায় দেশের শাসনভার ফিরে আসায় মায়ানমারে গণতন্ত্রের পুনপ্রতিষ্ঠা আদৌ সম্ভব কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে গভীর উদ্বেগ ও সংশয় দেখা দিয়েছে।

এই রাজনৈতিক পালাবদল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের বড় একটি অংশ ভোট দিলেও ক্ষমতা শেষ পর্যন্ত সেনাপ্রধানের হাতেই কেন্দ্রীভূত থাকল। নবগঠিত এই সরকারের অধীনে মায়ানমারের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কোন পথে যায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, সু কি-র উপস্থিতি নতুন সরকারের বৈধতা প্রমাণের একটি চেষ্টা হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *