মায়ের ত্যাগ ও ১৬ বছরের ময়াঙ্কের লড়াই: উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
গুয়াহাটি বিমানবন্দরে উৎসবের আমেজ আর অশ্রুসজল চোখে বরণ করে নেওয়া হলো ভারতের ৯৪তম দাবা গ্র্যান্ডমাস্টার ময়াঙ্ক চক্রবর্তীকে। আসামের এই ১৬ বছর বয়সী কিশোর উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রথম দাবাড়ু হিসেবে এই অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। এর আগে মেঘালয়, মণিপুর বা নাগাল্যান্ডের মতো কোনো রাজ্য থেকে কেউ দাবার এই সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছাতে পারেননি। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ডি গুকেশ বা দিব্যা দেশমুখের মতোই ময়াঙ্ককে রাজকীয় অভ্যর্থনা জানায় ক্রীড়াপ্রেমীরা।
এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে তাঁর মা মনোমিতা চক্রবর্তীর এক বিশাল আত্মত্যাগ। পেশায় স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ এই চিকিৎসক ছেলের ক্যারিয়ার গড়তে নিজের সরকারি চাকরি ছেড়ে দেন। ময়াঙ্কের প্রতিটি সফর ও অনুশীলনে তিনি ছায়ার মতো সঙ্গী হয়ে থেকেছেন। ভারতের দাবার আঙিনায় গুকেশের বাবা বা প্রজ্ঞানন্দের মায়ের মতো মনোমিতাও নিজের ক্যারিয়ার বিসর্জন দিয়ে ছেলেকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করতে নিরলস পরিশ্রম করেছেন।
প্রান্তিক উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে দাবার শীর্ষে পৌঁছানোর পথটি মোটেও সহজ ছিল না। উন্নত কোচিংয়ের অভাব এবং আর্থিক সংকটের কারণে অনেক সময় কম রেটিংয়ের টুর্নামেন্টে অংশ নিতে হয়েছে শুধু পুরস্কারের অর্থে বড় প্রতিযোগিতার খরচ মেটানোর জন্য। সমস্ত বাধা পেরিয়ে ময়াঙ্কের এই জয় কেবল একটি ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও সংগ্রামের এক সফল পরিণিতি। আপাতত এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের আনন্দেই ভাসছে ময়াঙ্ক ও তাঁর পরিবার।

