লেটেস্ট নিউজ

মার্কিন গোপন পরীক্ষা: ১৫ মিনিটেই গায়েব আস্ত যুদ্ধজাহাজ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন জার্মানির সামরিক শক্তির মোকাবিলা করতে গিয়ে আমেরিকা এমন এক রহস্যময় পরীক্ষায় মেতেছিল, যা আজও বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক বড় বিস্ময় ও ভয়ের নাম। ১৯৪৩ সালে ফিলাডেলফিয়া নৌ-ঘাঁটিতে পরিচালিত এই গোপন অভিযানটি ‘ফিলাডেলফিয়া এক্সপেরিমেন্ট’ নামে পরিচিত। দাবি করা হয়, আলবার্ট আইনস্টাইন এবং নিকোলা টেসলার তাত্ত্বিক গবেষণাকে ভিত্তি করে এই অবিশ্বাস্য পরীক্ষাটি চালানো হয়েছিল।

ঠিক কী ঘটেছিল সেই রহস্যময় দিনে?

শত্রুর রাডারকে ফাঁকি দেওয়ার প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে গিয়ে মার্কিন নৌবাহিনী তাদের একটি যুদ্ধজাহাজের ওপর উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, পরীক্ষার শুরুতে জাহাজটির চারপাশে এক অদ্ভুত সবুজাভ ধোঁয়া তৈরি হয়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই আস্ত যুদ্ধজাহাজ তার সমস্ত ক্রু সদস্যদের নিয়ে রাডার থেকে তো বটেই, মানুষের চোখের সামনে থেকেও অদৃশ্য হয়ে যায়।

প্রায় ১৫ মিনিট পর জাহাজটি আবার সেই একই স্থানে ফিরে আসে। কিন্তু বিস্ময়কর তথ্য হলো, এই ১৫ মিনিটের বিরতিতে জাহাজটিকে ৩০০ কিলোমিটার দূরে ভার্জিনিয়ার নরফোক এলাকায় দেখা গিয়েছিল। অর্থাৎ, জাহাজটি কেবল অদৃশ্যই হয়নি, বরং চোখের পলকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিল—যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় ‘টেলিপোর্টেশন’ বলা হয়।

ফিরে আসার পর বীভৎস দৃশ্য

জাহাজটি ফিরে আসার পর ভেতরে যা দেখা গিয়েছিল, তা ছিল যেকোনো ভৌতিক সিনেমার চেয়েও ভয়ংকর। ভেতরে থাকা সৈন্যদের অবস্থা দেখে শিউরে উঠেছিলেন উদ্ধারকারীরা:

  • অনেক সৈন্যর দেহ জাহাজের লোহার দেয়ালের সাথে মিশে গিয়েছিল।
  • বেশ কয়েকজন সৈন্যর মৃত্যু হয়েছিল এবং যারা বেঁচে ছিলেন, তারা সম্পূর্ণভাবে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিলেন।
  • কেউ কেউ দাবি করেন যে, তারা সেই কয়েক মিনিটে ভবিষ্যতের কোনো দৃশ্য দেখে এসেছেন।

মন্টক প্রজেক্ট ও টাইম ট্রাভেলের গুঞ্জন

এই ঘটনার রহস্য আরও ঘনীভূত হয় এডওয়ার্ড ক্যামেরন নামে এক ব্যক্তির দাবিতে। তিনি জানান, সেই সময় তিনি ওই জাহাজে ছিলেন এবং সবুজাভ ধোঁয়া দেখা দেওয়ার পর তিনি সমুদ্রে ঝাঁপ দেন। কিন্তু তিনি নিজেকে আবিষ্কার করেন ১৯৮৩ সালের একটি গোপন সামরিক ঘাঁটিতে, যা ‘মন্টক প্রজেক্ট’ নামে পরিচিত। তার মতে, ফিলাডেলফিয়া পরীক্ষার ফলে সময়ের চাকা উল্টে গিয়েছিল এবং একটি ‘টাইম গেট’ বা সময়ের সুড়ঙ্গ তৈরি হয়েছিল।

মার্কিন সরকার বরাবরই এই ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করে একে নিছক কল্পনা বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তবে ১৯৫৫ সালে মরিস কে জেসাপ নামে এক গবেষকের কাছে আসা বেনামী চিঠির পর থেকে এই ফিলাডেলফিয়া এক্সপেরিমেন্ট আজও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব বা কনস্পিরেসি থিওরির এক বড় রহস্য হয়ে রয়ে গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *