মার্কিন হুমকি উপেক্ষা করে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের মেগা চুক্তি: পুতিনের বড় ঘোষণা – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নয়াদিল্লি: আমেরিকার চোখরাঙানি ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশাল অঙ্কের কর আরোপের হুমকিকে কার্যত তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিল ভারত ও রাশিয়া। ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে ভারতের রুশ তেল কেনা নিয়ে আমেরিকা বারবার বাধা দিলেও, দুই দেশ এবার জ্বালানি বাণিজ্যের গণ্ডি পেরিয়ে এক ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত: তেলের বাইরেও গভীর সম্পর্ক
রাশিয়া ও ভারতের এই নতুন চুক্তির লক্ষ্য কেবল অপরিশোধিত তেল নয়, বরং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে যৌথ উৎপাদন ও প্রযুক্তি বিনিময়। রাশিয়ার বাণিজ্য প্রতিনিধি আন্দ্রেই সোবোলেভ জানিয়েছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়াই এখন মূল লক্ষ্য। যে ক্ষেত্রগুলোতে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে:
- জাহাজ নির্মাণ ও প্রকৌশল: রুশ প্রযুক্তিতে ভারতে গড়ে উঠবে অত্যাধুনিক উৎপাদন কেন্দ্র।
- তথ্য প্রযুক্তি (IT): দুই দেশের আইটি সেক্টরের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি।
- নবায়নযোগ্য শক্তি: পরিবেশবান্ধব শক্তি উৎপাদনে যৌথ বিনিয়োগ।
- ধাতুবিদ্যা ও পরিশোধন শিল্প: ভারতীয় কারখানায় রাশিয়ার সরাসরি অংশগ্রহণ।
ট্রাম্পের ‘৫০০% কর’ হুমকি ও ভারতের অবস্থান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের রুশ তেল আমদানিতে লাগাম টানতে ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করছেন। ট্রাম্প অভিযোগ তুলেছেন, ভারত রাশিয়ার তেলের দাম মিটিয়ে পরোক্ষভাবে পুতিনের যুদ্ধ তহবিলে সাহায্য করছে। এই অভিযোগে ইতিপূর্বে ২৫% জরিমানা কর চাপানোর পর, এবার ট্রাম্প প্রশাসন ৫০০% পর্যন্ত শুল্ক বৃদ্ধির হুমকি দিয়েছে।
তবে মোদী সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কোনো তৃতীয় শক্তির চাপে নির্ধারিত হবে না। দেশের স্বার্থ রক্ষায় ভারত তার সার্বভৌম সিদ্ধান্তে অটল।
নিষেধাজ্ঞা এড়াতে পুতিনের ‘মাস্টারপ্ল্যান’
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে ভারতীয় শোধনাগারগুলিকে বাঁচাতে বিশেষ কৌশল নিয়েছে ক্রেমলিন। বড় কো ম্পা নিগুলির পরিবর্তে ছোট ও নতুন উদীয়মান মধ্যস্থতাকারী সংস্থার মাধ্যমে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে, যাতে আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনে কোনো আইনি জটিলতা না তৈরি হয়। গত ডিসেম্বরে পুতিনের ভারত সফরেই এই অভয়বাণী দেওয়া হয়েছিল যে, বাইরের কোনো চাপ ভারতের তেল সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করতে পারবে না।

