মালদহকাণ্ডে নজিরবিহীন কড়া কমিশন, সিবিআই তদন্তের নির্দেশের পাশাপাশি পুলিশকর্তাদের তীব্র ভর্ৎসনা

মালদহের মানিকচকে ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া চরম বিশৃঙ্খলার প্রেক্ষিতে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশের পর বৃহস্পতিবার এই সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত বিচারকদের আটকে রাখা এবং নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় রাজ্য প্রশাসনের ওপর চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছিল, বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সিবিআই বা এনআইএ-র মতো স্বাধীন সংস্থাকে দিয়ে এই ঘটনার তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
বৃহস্পতিবার দিল্লিতে রাজ্যের মুখ্যসচিব, পুলিশ ডিজি এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্তাদের নিয়ে এক জরুরি বৈঠকে বসেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। সেখানে মালদহের পুলিশ সুপার অনুপম সিংহকে তীব্র ভর্ৎসনা করে জ্ঞানেশ কুমার প্রশ্ন তোলেন, “ঘটনাস্থলে আপনি নিজে কেন যাননি?” জেলাশাসকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ না পাওয়ায় তাঁর ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। এমনকি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং কলকাতা পুলিশের ভূমিকা নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন কমিশনার। ভবানীপুরে বিজেপি প্রার্থীর মনোনয়ন এবং সিইও দফতরের সামনে বিক্ষোভ সামলাতে না পারায় কলকাতার পুলিশ কমিশনারকেও ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়েছে।
ভোটের মুখে মালদহের মোথাবাড়ি ও সুজাপুর এলাকায় বিচারকদের আটকে রাখার ঘটনাটি বিচারব্যবস্থার ওপর আঘাত হিসেবে দেখছে কমিশন। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের নির্দেশে এখন থেকে সংশ্লিষ্ট বিচারক ও তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দায়িত্ব কমিশনের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসের ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে তদন্তভার তুলে দেওয়া হল। প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের উদ্দেশ্যে কমিশনের বার্তা ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট—দায়িত্ব পালনে গাফিলতি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
