মালদহে বিচারকদের ঘেরাও তৃণমূলের সুপরিকল্পিত ছক, দাবি শুভেন্দুর

মালদহে বিচারকদের ঘেরাও তৃণমূলের সুপরিকল্পিত ছক, দাবি শুভেন্দুর

মালদহের সুজাপুরে ভোটার তালিকা সংশোধন (SSR) চলাকালীন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের ঘেরাও ও সহিংসতার ঘটনাকে ‘তৃণমূলের পরিকল্পিত ও সংগঠিত চক্রান্ত’ বলে সরব হলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আজ এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, এই ঘটনার নেপথ্যে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত রয়েছে এবং স্থানীয় নেত্রী সাবিনা ইয়াসমিন মাঠে নেমে এই পরিকল্পনা কার্যকর করেছেন। শুভেন্দুর দাবি, প্রমাণ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় কালিয়াচক থানার সমস্ত নথিপত্র অবিলম্বে এনআইএ বা সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়া উচিত।

বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, বিচারকদের কয়েক ঘণ্টা আটকে রাখার এই ঘটনা কলকাতার শীর্ষ স্তর থেকে সাজানো হয়েছিল। তিনি এই ঘটনার সঙ্গে আর জি কর হাসপাতালের তুলনা টেনে বলেন, সেখানে যেমন পাঁচ দিনে তথ্য-প্রমাণ নষ্ট করা হয়েছিল, এখানেও সেই একই আশঙ্কা রয়েছে। শুভেন্দু আরও দাবি করেন, শাসক দল রাজনৈতিক বিরোধীদের ভয় দেখাতে ‘মধ্যযুগীয় বর্বরতা’ ও সামাজিক বয়কটের পথ বেছে নিচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি নন্দীগ্রামে এক বিজেপি সমর্থকের ওপর ফতোয়া জারির প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতা পুলিশের কালীঘাট বিভাগের আধিকারিকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে তিনি নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। পাশাপাশি, মালদহের এই অপ্রীতিকর ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের আটকে রাখার বিষয়টিকে ‘ধিক্কারজনক’ আখ্যা দিয়ে আদালত রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব ও পুলিশ মহাপরিচালকের কাছে জবাবদিহি চেয়েছে।

উল্লেখ্য, বুধবার রাতে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগে বিক্ষোভকারীরা সাতজন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাকে ঘেরাও করলে নিরাপত্তা বাহিনী তাঁদের উদ্ধার করে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই পরিস্থিতির জন্য নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে দায়ী করে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছিলেন। পাল্টা জবাবে শুভেন্দু স্পষ্ট জানান, গোটা বিষয়টিই প্রশাসনের ব্যর্থতা এবং শাসক দলের সাজানো নাটক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *