মিনি ইন্ডিয়া ভবানীপুরে সম্প্রীতির সুর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের, সমর্থনে গুজরাটি ও হিন্দিতে দেওয়াল লিখন

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের অন্যতম হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুরে প্রচারের রণকৌশলে বড়সড় চমক দিল তৃণমূল কংগ্রেস। খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই গড়ে বিভিন্ন ভাষাভাষী ও সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে পৌঁছাতে গ্রহণ করা হয়েছে অভিনব পন্থা। ভবানীপুরের মিশ্র সংস্কৃতির কথা মাথায় রেখে এলগিন রোড, শরৎ বোস রোড ও আলিপুর এলাকায় বাংলা ভাষার পাশাপাশি গুজরাটি, হিন্দি এবং উর্দুতেও দেওয়াল লিখন করা হয়েছে। মূলত ‘মিনি ইন্ডিয়া’ হিসেবে পরিচিত এই কেন্দ্রের প্রতিটি নাগরিকের কাছে তৃণমূল নেত্রীর বার্তা পৌঁছে দিতেই এই বিশেষ উদ্যোগ।
ভবানীপুর কেন্দ্রে যেমন বাঙালি অধ্যুষিত এলাকা রয়েছে, তেমনই ৭০, ৭১ ও ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিপুল সংখ্যক গুজরাটি, পাঞ্জাবি ও মাড়োয়ারি সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। এছাড়া এই এলাকায় সংখ্যালঘু ও হিন্দিভাষী ভোটারদের প্রভাবও অনস্বীকার্য। বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের এই ছবি তুলে ধরতে স্থানীয় কাউন্সিলর অসীম বসু সহ দলের কর্মীরা বিভিন্ন ভাষায় প্রচার চালাচ্ছেন। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের সুফল ও সম্প্রীতির আদর্শ তুলে ধরাই এই প্রচারের মূল লক্ষ্য।
অন্যদিকে, মনোনয়ন পেশের ক্ষেত্রেও ভবানীপুরের এই বহুত্ববাদী চরিত্র বজায় রাখতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, তাঁর মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হিসেবে থাকছেন বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা। প্রস্তাবক তালিকায় ফিরহাদ হাকিমের স্ত্রী রুবি হাকিমের পাশাপাশি বাবলু সিং ও মীরজ শাহের মতো ব্যক্তিত্বদের নাম উঠে আসছে। মূলত শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের আগে ভবানীপুরের ‘কসমোপলিটন’ বা সর্বজনীন সত্তাকে হাতিয়ার করেই নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চাইছে ঘাসফুল শিবির। স্থানীয়দের আবেগ ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতাকে প্রাধান্য দিয়ে শুরু হওয়া এই ঝোড়ো প্রচার এখন রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রে।
