মীনাক্ষী-বিকাশদের রুখতে তৃণমূলের বাজি প্রাক্তন বাম নেতা প্রতীক উর রহমান

আগামী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে বামফ্রন্ট। শূন্যের গেরো কাটাতে যাদবপুর বা উত্তরপাড়ার মতো নিজেদের শক্ত ঘাঁটিগুলোতে জনসংযোগ বাড়াতে মরিয়া সিপিআইএম। মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য ও কলতান দাশগুপ্তর মতো হেভিওয়েট প্রার্থীদের সামনে রেখে বামেরা যখন পুরনো মেজাজে প্রচার চালাচ্ছে, ঠিক তখনই পালটা কৌশল সাজিয়েছে ঘাসফুল শিবির। বাম দুর্গ সামলাতে এবার প্রাক্তন বাম নেতা প্রতীক উর রহমানকেই ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করছে তৃণমূল কংগ্রেস।
সম্প্রতি সিপিআইএমের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে লবিবাজির অভিযোগ তুলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন প্রতীক উর রহমান। বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট না পেলেও, দল তাঁকে বাম বিরোধী প্রচারের প্রধান মুখ হিসেবে তুলে ধরেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা’র নীতি গ্রহণ করেই প্রতীককে মীনাক্ষী বা বিকাশদের বিরুদ্ধে ময়দানে নামানো হয়েছে। যেহেতু তিনি দীর্ঘ সময় সিপিআইএমের অন্দরে ছিলেন, তাই দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা ও রণকৌশল সম্পর্কে তাঁর স্বচ্ছ ধারণা রয়েছে, যা তৃণমূলের জন্য বাড়তি সুবিধা হিসেবে কাজ করছে।
ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে প্রচারে ঝড় তুলেছেন প্রতীক। উত্তরপাড়ায় বুধবার দু’টি প্রচার সভার পাশাপাশি বারুইপুর ও সোনারপুরে রোড শো করেছেন তিনি। আজ যাদবপুরে তৃণমূল প্রার্থীর সমর্থনে আয়োজিত র্যালিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। এরপর আমডাঙা, জলহাটি, জয়নগর ও কাকদ্বীপের মতো এলাকাগুলোতেও প্রচারসূচি রয়েছে তাঁর। বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার ও স্ট্রিট কর্নারের মাধ্যমে সিপিআইএম যে জনমত তৈরির চেষ্টা করছে, প্রতীককে ব্যবহার করে ঠিক একই কায়দায় তার পালটা জবাব দিচ্ছে শাসক দল।
তৃণমূল নেতৃত্বের বিশ্বাস, অন্য কোনও নেতার চেয়ে প্রাক্তন সহযোদ্ধার আক্রমণ বাম কর্মীদের মনোবল ভাঙতে বেশি কার্যকর হবে। মীনাক্ষী-বিকাশদের মতো প্রার্থীদের আটকানোর এই লড়াইয়ে প্রতীক উর রহমানের প্রচার কতখানি প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার। বাম বনাম প্রাক্তন বামের এই দ্বৈরথে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ যে কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।
