মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে তোপ ট্রাম্প প্রশাসনের – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নয়াদিল্লি: ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) মধ্যে ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা ‘মাদার অব অল ডিলস’ সম্পন্ন হতেই মেজাজ হারাল ট্রাম্প প্রশাসন। মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে এই মেগা চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই কড়া ভাষায় তোপ দেগেছেন মার্কিন ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট। আমেরিকার অভিযোগ, একদিকে ওয়াশিংটন যখন রাশিয়ার তেল কেনার জন্য ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ কর চাপিয়েছে, তখন ইউরোপ ভারতের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নিজেদের আখের গোছাচ্ছে।
ইউরোপকে মার্কিন হুঁশিয়ারি:
মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের দিকে। তাঁর দাবি, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমেরিকার আত্মত্যাগ অনেক বেশি। অথচ ভারত থেকে ঘুরপথে রাশিয়ার পরিশোধিত তেল কিনে ইউরোপ পরোক্ষভাবে যুদ্ধকেই মদত দিচ্ছে। মূলত আমেরিকার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য চুক্তি এখনও ঝুলে থাকায়, ইউরোপের এই দ্রুত পদক্ষেপে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে হোয়াইট হাউস।
মোদীর বড় ঘোষণা:
মার্কিন রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই চুক্তিকে ঐতিহাসিক বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি এক্স হ্যান্ডলে জানান, “২৭ জানুয়ারি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত ইতিহাসের বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) চূড়ান্ত করল। এটি কেবল ব্যবসা নয়, বিশ্ব সমৃদ্ধির এক নতুন ব্লুপ্রিন্ট।” এই চুক্তির ফলে কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ তৈরির পাশাপাশি পেশাদারদের যাতায়াতের বিধিনিষেধও শিথিল হবে।
পাল্টা জবাব ইউরোপের:
ট্রাম্প প্রশাসনের রক্ষণশীল বাণিজ্য নীতির কড়া সমালোচনা করেছেন ইউরোপীয় নেতারাও। আমেরিকার নাম না করেই ইইউ প্রেসিডেন্ট আন্তোনিয়া কোস্তা সাফ জানিয়েছেন, বর্তমান বিশ্বে ‘ট্যারিফ’ বা কর বৃদ্ধি নয়, বরং মুক্ত বাণিজ্যই আসল সমাধান। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েনও এই চুক্তিকে আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সেরা হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের ‘প্রোটেকশনিজম’ বা সংরক্ষণবাদী নীতির মুখে ভারত ও ইউরোপের এই নতুন সমীকরণ ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন মোড় নিল বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। এখন দেখার, এই ইস্যুতে খোদ ডোনাল্ড ট্রাম্প কী পদক্ষেপ নেন।

