মুম্বইয়ের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ধারাভি, হাজার কোটি টাকার ব্যবসার আধার
মুম্বইয়ের মাত্র ২.৩৯ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ধারাভি আজ এক বিশাল অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। বিশ্বব্যাংক ও ইউএন-হ্যাবিট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, এই অঞ্চলের বার্ষিক উৎপাদন ১ থেকে ১.৫ বিলিয়ন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৯,০০০ কোটি টাকারও বেশি। অত্যন্ত ঘিঞ্জি পরিবেশ এবং নূন্যতম নাগরিক সুবিধা না থাকা সত্ত্বেও এখানে ২০,০০০-এরও বেশি ক্ষুদ্র শিল্প ইউনিট সক্রিয় রয়েছে। গার্মেন্টস, চামড়া, রিসাইক্লিং এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণের মতো ব্যবসাগুলো এই অঞ্চলের মাইক্রো-ইকোসিস্টেমকে সচল রেখেছে।
ধারাভির চামড়া শিল্পের বাজার একাই বছরে প্রায় ২৫০ কোটি টাকার ব্যবসা করে, যেখানকার পণ্য ইউরোপ ও আমেরিকায় রপ্তানি হয়। কুম্ভারওয়াড়ার মৃৎশিল্প কেন্দ্র থেকে বছরে প্রায় ১,০০০ কোটি টাকার লেনদেন হয়। পাশাপাশি, মুম্বই শহরের প্রায় ৮০ শতাংশ কঠিন বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের দায়িত্ব সামলায় ধারাভির রিসাইক্লিং ইউনিটগুলো। প্রতিদিন প্রায় ২০,০০০ টন বর্জ্য সংগ্রহের মাধ্যমে লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হচ্ছে এখানে। প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শহরটিকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করছে।
বর্তমানে ধারাভি পুনর্গঠনের কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উচ্ছেদ ও পরিচিতি হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আধুনিকায়নের নামে এই অনন্য ব্যবসায়িক কাঠামোটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে অনেকেই উদ্বিগ্ন। সরকারি স্বীকৃতি এবং উন্নত পরিকাঠামোর অভাব সত্ত্বেও ধারাভি যেভাবে মুম্বইয়ের অর্থনীতিকে সচল রেখেছে, তা এক বিস্ময়কর উদাহরণ। সংকীর্ণ গলি আর নর্দমার দুর্গন্ধ ছাপিয়ে এখানকার উদ্যোক্তাদের পরিশ্রমই ধারাভিকে ‘সোনার খনি’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

