লেটেস্ট নিউজ

‘মুসলিম ভোট চাই না, মসজিদেও যাব না’, বিজেপি বিধায়কের মন্তব্যে আমেঠিতে তুঙ্গে রাজনৈতিক পারদ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

আমেঠি: উত্তরপ্রদেশের আমেঠিতে বিজেপি বিধায়ক সুরেশ পাশির একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে জগদীশপুরের বিধায়ককে স্পষ্ট ভাষায় বলতে শোনা গেছে, তিনি মুসলিম ভোট চান না এবং কখনও মসজিদেও যাবেন না। তাঁর এই মন্তব্যে একদিকে যেমন বিরোধী দলগুলো আক্রমণের সুযোগ পেয়েছে, তেমনই অস্বস্তিতে পড়েছে খোদ বিজেপি শিবির।

ভাইরাল ভিডিও ঘিরে বিতর্ক

জগদীশপুর থেকে দ্বিতীয়বার নির্বাচিত বিধায়ক সুরেশ পাশির ২০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও বর্তমানে নেটদুনিয়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে সুরেশ পাসিকে বলতে শোনা যায়, “আমি কখনও মসজিদে যাইনি, ভবিষ্যতেও যাব না। আমি ওদের সুখ-দুঃখের অংশীদার নই। আমার অবস্থান খুব পরিষ্কার, আমার মুসলিম ভোটের কোনও প্রয়োজন নেই।” বিধায়কের এই কট্টরপন্থী অবস্থান প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

দলের মধ্যেই সমালোচনার মুখে বিধায়ক

সুরেশ পাশির এই মন্তব্যের দায় নিতে নারাজ তাঁর নিজের দল বিজেপি। জেলা সভাপতি সুধাংশু শুক্লা এই বক্তব্যকে বিধায়কের ব্যক্তিগত মতামত বলে অভিহিত করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, “বিজেপি ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ মন্ত্রে বিশ্বাসী। দলের আদর্শের সঙ্গে এই বক্তব্যের কোনও সম্পর্ক নেই।”

সরব বিরোধীরা

কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টি এই ইস্যুতে বিজেপিকে একহাত নিয়েছে। আমেঠি জেলা কংগ্রেস সভাপতি প্রদীপ সিংহল বলেন, “ভোট এলেই ভাইয়ে-ভাইয়ে বিভেদ সৃষ্টি করা বিজেপির পুরনো নাটক।” অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টির জেলা সভাপতি রাম উদিত যাদবের অভিযোগ, ক্ষমতায় টিকে থাকতে বিজেপি হিন্দু-মুসলিম বিভাজনকে হাতিয়ার করছে।

পুরনো ছবি বনাম বর্তমান দাবি

এই বিতর্কের মাঝেই সমাজমাধ্যমে সুরেশ পাশির কিছু পুরনো ছবি ভাইরাল হতে শুরু করেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, বিধায়ক সস্ত্রীক একটি মাজারে চাদর চড়াচ্ছেন এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের সঙ্গে ফিতে কাটছেন। তাঁর এই পুরনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বর্তমান দাবির অসঙ্গতি নিয়ে এখন সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন উঠছে। বিরোধীরা দাবি করছে, বিধায়কের এই দ্বিচারিতা মানুষের সামনে স্পষ্ট হয়ে গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *