মৈত্রীর দিন শেষ! ইরানের মিসাইল হামলায় কি ছিঁড়ল সৌদি আরবের সাথে বন্ধুত্বের শেষ সুতো? – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
গত বছর চীনের মধ্যস্থতায় হওয়া সেই ঐতিহাসিক হাত মেলানো এখন অতীত। পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে মার্কিন হামলার পর সৌদি আরব যে ইরানকে ‘ভ্রাতৃপ্রতিম রাষ্ট্র’ বলেছিল, মাত্র নয় মাসের ব্যবধানে সেই সমীকরণ এখন যুদ্ধের দোরগোড়ায়। সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “উত্তেজনার জবাব এখন উত্তেজনা দিয়েই দেওয়া হবে।”
আস্থার দেয়ালে ফাটল
বিগত তিন সপ্তাহে ইরান থেকে ছোঁড়া শত শত মিসাইল ও ড্রোন আছড়ে পড়েছে সৌদি আরব ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে। ইরানের দাবি, তাদের লক্ষ্য মুসলিম দেশ নয়, বরং সেখানে থাকা মার্কিন ঘাঁটি। কিন্তু রিয়াদের পাল্টা অভিযোগ— ইরান ‘অপরাধ করে অস্বীকার করার’ পুরনো অভ্যাসে ফিরে গেছে। ফলে ২০২৩ সালের সেই শান্তি চুক্তি এখন কেবল কাগজের টুকরো।
ট্রাম্প ফ্যাক্টর ও ভিশন ২০৩০
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফর এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা তেহরানকে বিচলিত করেছে। একদিকে ভিশন ২০৩০-এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক সংস্কারের স্বপ্ন, অন্যদিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ— এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে সৌদি আরব এখন ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য হচ্ছে।
অস্তিত্বের লড়াইয়ে ইরান
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান তার টিকে থাকার লড়াইয়ে সৌদির সাথে সম্পর্ককে ‘কুরবানি’ দিতেও দ্বিধা করছে না। তাদের মূল লক্ষ্য জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হেনে তেলের দাম বাড়িয়ে ওয়াশিংটনকে চাপে রাখা। ইরানের ভেতরেও কূটনিতিকদের চেয়ে এখন সামরিক বাহিনী (আইআরজিসি) সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়েছে।

