মোদীর ইজরায়েল সফর নিয়ে তোপ ওওয়াইসির, ভারতের বিদেশনীতি নিয়ে বড় প্রশ্ন – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ইজরায়েল সফরকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনীতিতে বইছে উত্তাল ঝড়। এআইএমআইএম (AIMIM) প্রধান তথা হায়দরাবাদের সাংসদ আসাদুদ্দিন ওওয়াইসি এই সফরকে প্যালেস্তাইনের প্রতি ভারতের ঐতিহাসিক সমর্থনের সঙ্গে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ একটি পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, গাজায় যা ঘটছে তা স্রেফ গণহত্যা এবং ইতিহাস এই সময়কে মনে রাখবে।
যুদ্ধাপরাধীকে আলিঙ্গন করছেন প্রধানমন্ত্রী
ওওয়াইসি ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে সরাসরি ‘যুদ্ধাপরাধী’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। ওওয়াইসির অভিযোগ, এমন একজন ব্যক্তির সঙ্গে মোদীর আলিঙ্গন ভারতের দীর্ঘদিনের নীতি ও আদর্শের পরিপন্থী। তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর শেষ হওয়া মাত্রই আমেরিকা ইরানে হামলা চালাতে পারে। নিজের পোস্টের শেষে ‘জায়োনিজম মুর্দাবাদ’ স্লোগান দিয়ে ইজরায়েলি মতাদর্শের প্রতি তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করেন তিনি।
কংগ্রেসের তোপ ও ইতিহাসের কথা
শুধু ওওয়াইসি নন, সরব হয়েছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসও। কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ বিষয়টিকে ‘নৈতিক কাপুরুষতা’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, ১৯৬০ সালে জওহরলাল নেহরু নিজে গাজায় গিয়ে রাষ্ট্রসংঘের শান্তি বাহিনীর ভারতীয় জওয়ানদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। এছাড়া ১৯৮৮ সালে ভারতই প্রথম প্যালেস্তাইন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছিল। প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, মোদী ইজরায়েলি পার্লামেন্টে ভাষণ দেওয়ার সময় গাজার নিষ্পাপ শিশুদের ওপর চলা নৃশংসতা নিয়ে মুখ খুলবেন এবং ন্যায়ের দাবি জানাবেন।
নেসেটে মোদীর শান্তি বার্তা
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর দুই দিনের ঐতিহাসিক সফরে ইজরায়েলের পার্লামেন্ট ‘নেসেট’-এ ভাষণ দিয়েছেন। সেখানে তিনি স্পষ্ট জানান, ভারত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন নীতিতে বিশ্বাসী। সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে কোনো দ্বিচারিতা সহ্য করা হবে না। প্রধানমন্ত্রী গাজা শান্তি পরিকল্পনাকে ওই অঞ্চলের স্থায়ী শান্তির পথ হিসেবে তুলে ধরেন। এর আগে বেন গুরিয়ান বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তাঁর স্ত্রী সারা।

