মোদীর মাস্টারপ্ল্যান: রাজনীতির ময়দানে নামছে বিজেপির ১০০০ ‘তরুণ তুর্কি’ – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সংগঠনে বড়সড় রদবদল ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির লক্ষ্যে এক নজিরবিহীন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। লাল কেল্লার প্রাকার থেকে দেওয়া তাঁর সেই ঐতিহাসিক আহ্বান—’এক লক্ষ অরাজনৈতিক তরুণকে রাজনীতিতে আনা’—বাস্তবায়নের পথে প্রথম বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেশজুড়ে ১,০০০ জন ‘প্রতিশ্রুতিশীল কর্মী’ নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিজেপি।
কারা পাচ্ছেন সুযোগ এবং কীভাবে?
এই বিশেষ বাহিনীর জন্য ২৫ থেকে ৪০ বছর বয়সী তরুণদের বেছে নেওয়া হয়েছে। সারা দেশ থেকে বাছাই করা এই ১,০০০ জন তরুণকে আগামী তিন বছর কঠোর সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এই নির্বাচনে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সামাজিক ভারসাম্য এবং আঞ্চলিক বৈচিত্র্যকে। আরএসএস-এর বিভিন্ন শাখা সংগঠন, সামাজিক সংস্থা এবং দক্ষ পেশাদারদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর এই মেধা তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
কর্মপরিকল্পনার নীল নকশা
প্রশিক্ষণ শেষে এই বিশাল বাহিনীকে তিনটি স্তরে ভাগ করে দলের মূল স্রোতে মিশিয়ে দেওয়া হবে:
- সাংগঠনিক পদ: প্রায় ২০০ জনকে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদে বসানো হবে।
- সরকারি ও প্রশাসনিক ভূমিকা: প্রায় ৩০০ জনকে বিভিন্ন সরকারি উদ্যোগ, কমিশন এবং গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে নিয়োগ করা হবে।
- ভবিষ্যৎ জননেতা: অবশিষ্ট ৫০০ জনকে স্বতন্ত্রভাবে আগামীর জনপ্রতিনিধি বা দক্ষ জননেতা হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
রাজ্যভিত্তিক বিন্যাস
বিজেপির এই নতুন বাহিনীতে রাজ্যভেদে সংখ্যার তারতম্য রাখা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি কর্মী নেওয়া হচ্ছে উত্তরপ্রদেশ (১১০ জন) ও বিহার (৭০ জন) থেকে। এছাড়া মহারাষ্ট্র ও মধ্যপ্রদেশ থেকে যথাক্রমে ৬০ ও ৫০ জন এবং ছোট রাজ্যগুলো থেকে গড়ে ১৫-২০ জন করে তরুণ প্রতিনিধি এই প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন।
লক্ষ্য যখন ২০৪৭
প্রধানমন্ত্রী মোদীর লক্ষ্য স্পষ্ট—বিজেপিকে কেবল একটি রাজনৈতিক দল নয়, বরং একটি দক্ষ পেশাদার সংগঠনে রূপান্তরিত করা। সমাজকর্ম, দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্ভাবন এবং ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে সফল তরুণদের রাজনীতিতে এনে ২০৪৭ সালের ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার কারিগর হিসেবে প্রস্তুত করাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।

