মোদী-জায়েদ বৈঠকের জের? ইসলামাবাদ বিমানবন্দর থেকে মুখ ফেরাল আমিরাত – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ইসলামাবাদ: কূটনৈতিক সমীকরণে বড়সড় রদবদল। পাকিস্তানের ইসলামাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার দৌড় থেকে সরে দাঁড়াল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE)। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সাম্প্রতিক হাই-প্রোফাইল বৈঠকের পরপরই আবুধাবির এই সিদ্ধান্তে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।
কেন পিছিয়ে এল UAE?
পাকিস্তান সরকারের দাবি, বিমানবন্দর পরিচালনার জন্য কোনো উপযুক্ত স্থানীয় সহযোগী সংস্থা বা অপারেশনাল পার্টনার খুঁজে পায়নি আমিরশাহি। তবে নেপথ্যে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক কারণ। ২০২৫ সালের আগস্টে হওয়া প্রাথমিক চুক্তিটি বারবার ঝুলে যাওয়ায় বিরক্তি প্রকাশ করেছিল আবুধাবি। শেষমেশ তারা জানিয়ে দিয়েছে, এই প্রকল্প এগিয়ে নিতে তারা আর আগ্রহী নয়।
ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ও পাকিস্তানের অস্বস্তি
নয়াদিল্লিতে মোদী ও আল নাহিয়ানের দীর্ঘ বৈঠকের পর ভারত-UAE সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে সফরের পর ৯০০ জন বন্দি ভারতীয়কে মুক্তিও দিয়েছে আমিরশাহি। ঠিক এই সময়েই ইসলামাবাদের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া পাকিস্তানের জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সৌদি-আমিরশাহি দ্বন্দ্ব ও পাকিস্তান
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরব ও আমিরশাহির ক্রমবর্ধমান দূরত্বের প্রভাব পড়ছে পাকিস্তানের ওপর। পাকিস্তান বর্তমানে রিয়াধের ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠছে এবং ‘ইসলামিক ন্যাটো’র মতো ভাবনায় সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে। এই মেরুকরণই আবুধাবিকে ইসলামাবাদের থেকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ কী?
আর্থিক সংকটে জর্জরিত পাকিস্তান এখন বিমানবন্দরটিকে ‘ওপেন প্রাইভেটাইজেশন’ বা উন্মুক্ত বেসরকারিকরণের তালিকায় পাঠিয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার লাগাতার লোকসান রুখতে ইসলামাবাদ মরিয়া হলেও বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

