লেটেস্ট নিউজ

মোদী মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল: বাদ পড়ছেন ৬ মন্ত্রী, নীতিন নবীনকে বড় দায়িত্ব ও উত্তরপ্রদেশের প্রভাবশালী নেতার গ্র্যান্ড এন্ট্রি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নয়াদিল্লি: ২০২৬ সালের শুরুতেই দেশের রাজনৈতিক অলিন্দে বড়সড় রদবদলের হাওয়া। সংসদীয় বাজেট পেশের আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর মন্ত্রিসভায় আমূল পরিবর্তন আনতে চলেছেন বলে খবর। এই রদবদল কেবল মন্ত্রক নয়, বরং ভারতীয় জনতা পার্টির সাংগঠনিক কাঠামোতেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তরুণ নেতা নীতিন নবীনকে জাতীয় কার্যকরী সভাপতি করার মাধ্যমে বিজেপি ইতিমধ্যেই ‘প্রজন্ম পরিবর্তনের’ বার্তা দিয়েছে, যার প্রতিফলন এবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভাতেও দেখা যাবে।

নীতিন নবীনের নতুন টিম ও সাংগঠনিক সংস্কার

চলতি মাসেই নীতিন নবীন বিজেপির পূর্ণকালীন জাতীয় সভাপতির দায়িত্ব পেতে পারেন। দলীয় সূত্রে খবর, এই নির্বাচনের পরপরই আগামী মাসে বিজেপির ন্যাশনাল কাউন্সিলের একটি মেগা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে নীতিন নবীনের নাম চূড়ান্ত হওয়ার পাশাপাশি দলের ‘জাতীয় টিম’ সম্পূর্ণ পুনর্গঠন করা হবে। অভিজ্ঞতার সঙ্গে তারুণ্যের মেলবন্ধন ঘটিয়ে এই নতুন টিম সাজানো হচ্ছে, যাদের মূল লক্ষ্য হবে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন এবং ভবিষ্যৎ রাজনীতির ভিত মজবুত করা। দীর্ঘ সময় ধরে সাংগঠনিক পদে থাকা একাধিক নেতাকে এবার নির্বাচনী ময়দানে অথবা পরামর্শদাতার ভূমিকায় পাঠানো হতে পারে।

৬ মন্ত্রীর বিদায় ও উত্তরপ্রদেশ থেকে ব্রাহ্মণ মুখের এন্ট্রি

এই রদবদলের অন্যতম প্রধান কারণ রাজ্যসভার সমীকরণ। চলতি বছরে এনডিএ সরকারের ৬ জন মন্ত্রীর রাজ্যসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে, যার মধ্যে ৪ জনের মেয়াদ শেষ হবে এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে। জল্পনা রয়েছে, এই মন্ত্রীদের অধিকাংশকেই অব্যাহতি দিয়ে নতুন মুখ আনা হবে। বিশেষত, উত্তরপ্রদেশের রাজনৈতিক সমীকরণ মেলাতে হাইকম্যান্ড বিশেষ তৎপর। সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশে ব্রাহ্মণ বিধায়কদের একটি গোপন বৈঠককে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তা সামাল দিতে একজন প্রভাবশালী ব্রাহ্মণ নেতাকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়া হতে পারে। রাজ্যসভায় বাগ্মিতার জন্য পরিচিত এই নেতাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করে ২০২৭-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে জাতিগত সমীকরণ ঠিক রাখতে চাইছে বিজেপি।

গুরুত্ব বাড়ছে শরিক দলগুলোর

কেবল বিজেপি নয়, এনডিএ জোটের শরিকদেরও খুশি রাখতে এই মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিহারে নীতিশ কুমারের জেডিইউ (JDU) কোটা থেকে আরও একজন মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। অন্যদিকে, সবথেকে বেশি নজর থাকছে মহারাষ্ট্রের এনসিপি (অজিত পাওয়ার গোষ্ঠী)-র দিকে। সূত্রের খবর, এনসিপি-র একজন হেভিওয়েট নেতাকে সরাসরি ক্যাবিনেট মন্ত্রীর পদ দেওয়া হতে পারে। উল্লেখ্য, এই নেতাই আগে ‘স্বতন্ত্র দায়িত্ব’ গ্রহণে অস্বীকার করেছিলেন। আসন্ন পুরভোট এবং মহারাষ্ট্রের বর্তমান রাজনীতির প্রেক্ষাপটে তাঁকে বড় কোনো দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া একপ্রকার নিশ্চিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *