মোমো কারখানায় মৃত্যুমিছিল: ‘মালিক কেন অধরা?’ ব্যারাকপুর থেকে মমতাকে তোপ অমিত শাহের – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড নিয়ে এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় তুললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবার ব্যারাকপুরের বিশাল কর্মীসভা থেকে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা এবং দুর্নীতি নিয়ে সরব হয়ে শাহ প্রশ্ন তোলেন, “এত বড় বিপর্যয়ের পরেও আনন্দপুরের মোমো কারখানার মালিককে কেন এখনও গ্রেফতার করা হলো না? কার মদতে সে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে?”
বিপর্যয় নয়, এটি সরকারি দুর্নীতি: শাহ
ব্যারাকপুরের মঞ্চ থেকে শাহ দাবি করেন, আনন্দপুরের এই ঘটনা স্রেফ কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং রাজ্য সরকারের চরম অব্যবস্থা ও দুর্নীতিরই ফসল। তিনি বলেন, “যাঁরা এই মর্মান্তিক ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমি সমবেদনা জানাই। কিন্তু এই মৃত্যুর জন্য দায়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের উদাসীনতা। কারখানায় ন্যূনতম সুরক্ষা ব্যবস্থা ছিল না, অথচ প্রশাসনের নাকের ডগায় সেটি চলছিল।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ইঙ্গিত, প্রভাবশালী যোগসাজশ থাকার কারণেই মূল অভিযুক্ত এখনও পুলিশের নাগালের বাইরে।
মৃত্যুপুরী আনন্দপুর: নিখোঁজ এখনও ২৭
গত চারদিন ধরে আনন্দপুরের সেই ভস্মীভূত কারখানায় চলছে তল্লাশি। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ ২৭ জনের কোনো হদিস মেলেনি। শুক্রবার পর্যন্ত দুর্ঘটনাস্থল থেকে ২১টি দেহাংশ উদ্ধার করা হয়েছে, যা দেখে শিউরে উঠছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে একের পর এক দেহাংশ মেলায় মৃতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা আরও বাড়ছে।
তদন্তে সিএফএসএল এবং ডিএনএ পরীক্ষা
বারুইপুর পুলিশ জেলার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার হওয়া ২১টি দেহাংশ ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (CFSL)-এ পাঠানো হয়েছে। মৃতদেহগুলি এতটাই বিকৃত হয়ে গিয়েছে যে, ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া পরিচয় শনাক্ত করা আসাম্ভব। বারুইপুর পুলিশ সুপার নিজে ল্যাবরেটরিতে গিয়ে পরীক্ষার কাজ দ্রুত শেষ করার অনুরোধ জানিয়েছেন। এদিকে শনিবারও ঘটনাস্থলে জেসিবি এবং ডেকরেটার্সের কর্মী লাগিয়ে টিনের শেড ও ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে।
চাপ বাড়ছে নবান্নের ওপর
ঘটনার চার দিন পার হয়ে গেলেও কারখানার মালিক গ্রেফতার না হওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে রাজনৈতিক মহল। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, লোকসভা নির্বাচনের আগে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যে প্রতিবাদের ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে। অমিত শাহের আজকের এই আক্রমণ সেই পারদকেই আরও বাড়িয়ে দিল। কেন্দ্র বনাম রাজ্য সংঘাতে এখন দেখার, আনন্দপুর কাণ্ডে অভিযুক্তকে ধরতে পুলিশ কতটা তৎপর হয়।

