যেসব দেশীয় রাজ্য ভারতের সাথে একীভূত হতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল.. আকর্ষণীয় ইতিহাস! – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসে (২০২৬) ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো দেশের একীকরণ। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশরা চলে যাওয়ার সময় ভারত ৫০০টিরও বেশি দেশীয় রাজ্যে বিভক্ত ছিল। সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় অধিকাংশ রাজ্য ভারতে যোগ দিলেও কিছু রাজ্য শুরুতে তীব্র আপত্তি জানিয়েছিল।
১. ত্রাভাঙ্কোর
সমুদ্র বাণিজ্য ও খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ ত্রাভাঙ্কোর স্বাধীন থাকতে চেয়েছিল। দেওয়ান স্যার সি.পি. রামস্বামী আইয়ার এর পক্ষে ছিলেন। তবে কেরালা সোশ্যালিস্ট পার্টির নেতাদের দ্বারা প্রাণঘাতী হামলার পর তিনি সিদ্ধান্ত বদলান। ফলে ৩০ জুলাই, ১৯৪৭-এ ত্রাভাঙ্কোর ভারতে অন্তর্ভুক্ত হয়।
২. যোধপুর
মহারাজা হনবন্ত সিং ভারত না পাকিস্তান—কোথায় যোগ দেবেন তা নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন। জিন্নাহ করাচি বন্দর ব্যবহারের টোপ দিলে তিনি পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকেছিলেন। কিন্তু সর্দার প্যাটেল উপযুক্ত সুযোগ-সুবিধার আশ্বাস দিলে ১১ আগস্ট, ১৯৪৭-এ তিনি ভারতভুক্তির চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
৩. ভোপাল
নবাব হামিদুল্লাহ খান কংগ্রেস শাসনের বিরোধী ছিলেন এবং স্বাধীন থাকতে চেয়েছিলেন। কিন্তু অন্যান্য রাজ্যের ভারতভুক্তি দেখে বাধ্য হয়ে জুলাই ১৯৪৭-এ তিনি ভারতের সঙ্গে হাত মেলান।
৪. হায়দ্রাবাদ
তৎকালীন ভারতের সবচেয়ে ধনী রাজ্য হায়দ্রাবাদের নিজাম মীর ওসমান আলী খান স্বাধীন থাকার জেদ ধরেছিলেন। রাজাকারদের তাণ্ডব বাড়লে ১৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৮-এ ভারতীয় সেনাবাহিনী ‘অপারেশন পোলো’ শুরু করে। চার দিনের যুদ্ধের পর ১৮ সেপ্টেম্বর নিজাম আত্মসমর্পণ করেন।
৫. জুনাগড়
নবাব মহবত খানজি (তৃতীয়) জুনাগড়কে পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। ২০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৮-এ গণভোট (Plebiscite) অনুষ্ঠিত হলে ৯১% মানুষ ভারতের পক্ষে ভোট দেয় এবং জুনাগড় ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে।

