যোগীরাজ্যে কি ভাঙছে বিজেপির তাসের ঘর? ওবিসি ও ব্রাহ্মণ দ্বন্দ্বে তুঙ্গে রাজনৈতিক অস্থিরতা – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
উত্তরপ্রদেশে বিজেপির দীর্ঘদিনের মজবুত ‘সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা সামাজিক সমীকরণ এখন খাদের কিনারে। একদিকে অখিলেশ যাদবের ‘PDA’ (পিছড়া, দলিত, সংখ্যালঘু) রণনীতি ওবিসি ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাচ্ছে, অন্যদিকে দলের ভেতরেই ব্রাত্য বোধ করছেন ব্রাহ্মণ নেতৃত্ব। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির আসন সংখ্যা ৬২ থেকে ৩৩-এ নেমে আসা এই ফাটলেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ব্রাহ্মণ বনাম ওবিসি: সংঘাতের মূলে কী?
বিজেপির অন্দরে এখন ওবিসি তোষণ বনাম উচ্চবর্ণের অস্তিত্বের লড়াই শুরু হয়েছে। দলের ব্রাহ্মণ নেতাদের অভিযোগ, ওবিসি ভোট ধরে রাখতে গিয়ে উচ্চবর্ণের স্বার্থ বলি দিচ্ছে গেরুয়া শিবির। সাম্প্রতিক ইউজিসি (UGC) নিয়মাবলী নিয়ে এই ক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে, যাকে অনেক বিজেপি নেতাই ‘কালো আইন’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তাদের দাবি, উচ্চশিক্ষায় সংরক্ষণের প্যাঁচে কোণঠাসা করা হচ্ছে সাধারণ শ্রেণির মেধাকে।
অখিলেশের ‘PDA’ মডেলে কুপোকাত বিজেপি
সমাজবাদী পার্টি প্রধান অখিলেশ যাদব শুধু যাদব বা মুসলিম ভোটে আটকে না থেকে কুর্মি, সাইনি ও গুর্জরদের মতো অ-যাদব ওবিসি গোষ্ঠীগুলোকে কাছে টেনেছেন। পরিসংখ্যান বলছে, উত্তরপ্রদেশের প্রায় ৪৫-৫২ শতাংশ ওবিসি ভোট এখন বিজেপির হাতছাড়া হওয়ার পথে।
| নির্বাচনের বছর | বিজেপির আসন সংখ্যা (মোট ৮০) |
| ২০১৪ লোকসভা | ৭১ |
| ২০১৯ লোকসভা | ৬২ |
| ২০২৪ লোকসভা | ৩৩ |
কেন চিন্তায় যোগী-শাহ জুটি?
উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে ব্রাহ্মণরা জনসংখ্যার মাত্র ১০-১২ শতাংশ হলেও তারা মূলত ‘ওপিনিয়ন মেকার’ বা জনমত গঠনকারী হিসেবে পরিচিত। হিন্দুত্বের আবেগে এতদিন যারা বিজেপির মেরুদণ্ড ছিল, এখন তারাই চাকরি ও ক্ষমতায় নিজেদের ভাগ কমে যাওয়া নিয়ে সরব। একদিকে অখিলেশের ২৭ শতাংশ ওবিসি কোটা রক্ষার সওয়াল, অন্যদিকে উচ্চবর্ণের অভিমান— এই দুই সাঁড়াশি চাপের মুখে দাঁড়িয়ে ২০২৭-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে উত্তরপ্রদেশে পদ্ম শিবির বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে।

