যৌন লালসার টোপ দিয়ে লক্ষাধিক টাকার প্রতারণা, পুলিশের জালে ‘ফেসবুক সুন্দরী’ – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
তামিলনাড়ু: সোশ্যাল মিডিয়ায় রূপের জাদু ছড়িয়ে যুবকদের সর্বস্বান্ত করার অভিযোগে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন এক তরুণী। ফেসবুকের ভুয়া অ্যাকাউন্টে সুন্দরী মেয়েদের ছবি ব্যবহার করে দেহব্যবসার প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে তামিলনাড়ুর কন্যাকুমারী জেলায়।
যেভাবে চলত প্রতারণার জাল
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত তরুণীর নাম নবিলা বেগম (২৭), যিনি রামানাথপুরম জেলার পরমকুডির বাসিন্দা। তিনি ফেসবুকে একাধিক ভুয়া প্রোফাইল খুলে সেখানে ইন্টারনেটের বিভিন্ন সুন্দরী তরুণীদের ছবি ও ভিডিও আপলোড করতেন। এই মোহময়ী ছবি দেখে ফাঁদে পা দিতেন বহু যুবক। তাদের সঙ্গে মেসেঞ্জারে আলাপ জমিয়ে অন্তরঙ্গ সময় কাটানোর প্রতিশ্রুতি দিতেন নবিলা।
আলাদা পরিষেবার জন্য আলাদা ‘রেট’
তদন্তে উঠে এসেছে এক বিস্ফোরক তথ্য। অভিযুক্ত তরুণী যুবকদের প্রলুব্ধ করতে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর শেয়ার করতেন। সেখানে ভিডিও কলের মাধ্যমে নগ্ন হওয়ার জন্য একরকম দর, অশ্লীল চ্যাটিংয়ের জন্য আলাদা এবং সরাসরি শারীরিক সম্পর্কের জন্য ভিন্ন ভিন্ন অঙ্কের টাকা দাবি করা হতো। কন্যাকুমারী জেলার বেশ কয়েকজন যুবক এই লালসার ফাঁদে পা দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা খুইয়েছেন বলে জানা গেছে।
পুলিশি অভিযান ও গ্রেপ্তার
টাকা হারিয়ে সর্বস্বান্ত হওয়ার পর ভুক্তভোগীরা কন্যাকুমারীর এসপি স্টালিনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সাইবার ক্রাইম পুলিশ তদন্তে নেমে সেই নির্দিষ্ট ফেসবুক আইডির ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট এবং মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করে। এরপর পরমকুডি এলাকায় অভিযান চালিয়ে নবিলা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জেরার মুখে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন ওই তরুণী। পুলিশ তাকে নাগেরকয়েলে নিয়ে আসার পর আদালতের নির্দেশে তাকলাই মহিলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই চক্রের সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় অপরিচিত কারোর সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে সাধারণ মানুষকে আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।

