রণক্ষেত্রে ইরান ও ইজরায়েল আর বিপাকে ভারতের চা শিল্প – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
দিল্লি থেকে তেহরানের দূরত্ব কয়েক হাজার কিলোমিটার হলেও ইরান ও ইজরায়েলের সংঘাতের আঁচ সরাসরি এসে লেগেছে ভারতীয় চা বাগানে। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে ইরানের কড়াকড়ি এবং আকাশছোঁয়া পরিবহন খরচের কারণে মাথায় হাত রফতানিকারীদের। দুবাই হয়ে যে বিশাল বাজার ভারতীয় চায়ের দখলে ছিল, যুদ্ধের মেঘে তা এখন অনিশ্চিত। গত বছরের তুলনায় ২০২৫ সালে উপসাগরীয় দেশগুলোতে চা রফতানি বাড়লেও বর্তমান পরিস্থিতি সেই সাফল্যে জল ঢেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইন্ডিয়ান টি এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং টি বোর্ড সূত্রে খবর, গত মরসুমের অনেক টাকা এখনও বকেয়া এবং বেশ কিছু পণ্যবাহী জাহাজ মাঝপথে আটকে আছে। মে-জুন মাস থেকে নতুন রফতানিযোগ্য চা বাজারে আসার কথা থাকলেও যুদ্ধের দীর্ঘসূত্রতা দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে। টি বোর্ড ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রককে এই সঙ্কটের কথা জানিয়েছে। বিকল্প হিসেবে বাগান মালিকরা অর্থোডক্স চায়ের বদলে সিটিসি চা উৎপাদনের কথা ভাবছেন, যা দেশের বাজারে বা অন্য কোনো আন্তর্জাতিক বাজারে জোগান দেওয়া সম্ভব। তবে রফতানি কমলে দেশের বাজারে চায়ের জোগান বাড়লেও দাম কমার সম্ভাবনা নেই বললেই মনে করছে শিল্পমহল।
চায়ের বাজারে যুদ্ধের কোপ পড়ার ৫টি বড় কারণ
- হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে কড়াকড়ি ও পণ্য পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি।
- দুবাই ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে রফতানি বাণিজ্য থমকে যাওয়া।
- পুরানো অর্ডারের টাকা আটকে থাকা এবং মাঝপথে জাহাজ আটকা পড়া।
- ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে সরাসরি লেনদেনে জটিলতা।
- নতুন মরসুমের উৎপাদন শুরু হলেও যুদ্ধের কারণে বিদেশের বাজারে অনিশ্চয়তা।

