লেটেস্ট নিউজ

রমজান মাসেই কি ইরানে মার্কিন হামলা? ট্রাম্পের ভয়ঙ্কর ছক ও মধ্যপ্রাচ্যের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নিউজ ডেস্ক : তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যেকার স্নায়ুযুদ্ধ এখন আক্ষরিক অর্থেই বারুদের স্তূপে দাঁড়িয়ে। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ইউরোপীয় কূটনীতিক—সবার কণ্ঠেই এখন একটাই উদ্বেগ, ডোনাল্ড ট্রাম্প কি পবিত্র রমজান মাসেই ইরানের ওপর আঘাত হানবেন? নাকি ইদ পর্যন্ত অপেক্ষা করবে হোয়াইট হাউস? একদিকে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তেহরানের অনড় অবস্থান, অন্যদিকে আমেরিকার নজিরবিহীন সামরিক প্রস্তুতি; সব মিলিয়ে ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের পর মধ্যপ্রাচ্য এত বড় যুদ্ধের আশঙ্কার মুখে আর কখনও পড়েনি।

যুদ্ধের মেঘ ও রমজানের সমীকরণ

বিশ্লেষকদের মতে, রমজান মাসে হামলা চালানো ট্রাম্পের জন্য এক মস্ত বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি। মুসলিম বিশ্বের এই পবিত্র মাসে যদি ইরান আক্রান্ত হয়, তবে আমেরিকার তথাকথিত বন্ধু ইসলামি দেশগুলোও জনরোষের ভয়ে ওয়াশিংটনের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প যেভাবে যুদ্ধজাহাজ এবং বোমারু বিমান মোতায়েন করেছেন, তাতে ‘পিছু হটা’ তার জন্য এখন মান-সম্মানের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইজরায়েলও বসে নেই; তারা ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযানের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করে ফেলেছে।

কূটনীতির কফিনে শেষ পেরেক

ওমানের মধ্যস্থতায় আলোচনার শেষ চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে বলে জানা গেছে। সূত্রের খবর, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবের খাম ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি না খুলেই ফিরিয়ে দিয়েছেন। তেহরানের সাফ কথা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং মিসাইল টেকনোলজি তাদের সার্বভৌমত্বের অংশ, এখানে কোনো আপস হবে না। বিপরীতে ট্রাম্পের আলটিমেটাম, আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে লিখিত প্রতিশ্রুতি না দিলে ‘ভয়ঙ্কর কিছু’ ঘটতে চলেছে।

হামলার লক্ষ্যবস্তু ও সম্ভাব্য কৌশল

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ ডেভিড দে রশেসের মতে, যুদ্ধ শুরু হলে আমেরিকা সরাসরি ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Air Defense) গুঁড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে। এরপর তাদের মূল লক্ষ্য হবে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের (IRGC) নৌ শাখা। তবে প্রশ্ন উঠছে ট্রাম্পের চূড়ান্ত অভিসন্ধি নিয়ে। তিনি কি কেবল পরমাণু কেন্দ্র ধ্বংস করতে চান, নাকি ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন (Regime Change) ঘটানোই তার আসল লক্ষ্য?

বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারে কম্পন

যুদ্ধের এই দামামায় ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম লাফিয়ে বাড়তে শুরু করেছে। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি মার্কিন ঘাঁটি তাদের নিশানায় থাকবে এবং প্রয়োজনে তারা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেবে। এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতি এক ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়তে পারে।

মার্চের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই মার্কিন বাহিনী পূর্ণ প্রস্তুতি সম্পন্ন করবে বলে জানা গেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বৈঠকই হয়তো ঠিক করে দেবে, আগামী কয়েক সপ্তাহে পারস্য উপসাগরের জল রক্তে লাল হবে কি না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *