রাজনৈতিক থ্রিলার ও মানবিক আবেগের মিশেল, অনবদ্য অরিন্দম-কুণালের ‘কর্পূর’ – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
অরিন্দম শীল পরিচালিত রাজনৈতিক থ্রিলার ‘কর্পূর’ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। ১৯৯৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি কন্ট্রোলার অফ এগজামিনেশন মনীষা মুখোপাধ্যায়ের রহস্যজনক অন্তর্ধানের সত্য ঘটনা অবলম্বনে এই ছবি নির্মিত। অধ্যাপক মৌসুমি সেনের (ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত) হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যাওয়া এবং সেই সময়ের শিক্ষা দুর্নীতির প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে ছবির কাহিনি। চিত্রনাট্যে ১৯৯৭ ও ২০১৯—এই দুই সময়ের মেলবন্ধন ঘটানো হয়েছে, যা দর্শকদের শুরু থেকেই কৌতূহলী করে রাখে।
ছবিতে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত ও ব্রাত্য বসুর অভিনয় অত্যন্ত জোরালো। তবে বিশেষ চমক দিয়েছেন রাজনীতিক কুণাল ঘোষ; বাম নেতা শংকর মল্লিকের চরিত্রে তাঁর পর্দায় উপস্থিতি ও সংলাপ প্রক্ষেপণ দর্শকদের নজর কেড়েছে। দুই তরুণ সাংবাদিকের সত্য অনুসন্ধানের মাধ্যমে গল্পের পরত উন্মোচিত হয়, যেখানে উঠে আসে ক্ষমতার অলিন্দে থাকা মানুষের নৈতিক অবক্ষয় ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কথা। প্রথমার্ধ কিছুটা মন্থর হলেও দ্বিতীয়ার্ধে ছবির গতি ও নাটকীয় মোড় দর্শকদের শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে সক্ষম হয়।
রথীজিৎ ভট্টাচার্যের সংগীত এবং অনির্বাণ চট্টোপাধ্যায়ের সিনেমাটোগ্রাফি ছবির মেজাজকে সার্থকভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। লহমা ভট্টাচার্য এবং অর্পণ ঘোষালের সাবলীল অভিনয় কাহিনিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সব মিলিয়ে, দুর্নীতির আবহে ক্ষমতার লড়াই এবং সম্পর্কের টানাপোড়েনের এই আখ্যান কেবল একটি তদন্তের গল্প নয়, বরং এটি একটি গভীর মানবিক দলিল। রাজনৈতিক জটিলতা আর টানটান উত্তেজনার স্বাদ পেতে ‘কর্পূর’ একটি আবশ্যিক সিনেমা।

