লেটেস্ট নিউজ

রাজস্থানে মাটি খুঁড়তেই মিলল রহস্যময় বিশাল ধাতব কলস, সোনা ভেবে লুটপাটের হিড়িক! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজস্থান: রাজস্থানের টোঙ্ক জেলা থেকে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। নিভাই থানা এলাকার সিদড়া গ্রামে একটি নির্জন স্থানে মাটি খননের সময় একটি রহস্যময় বিশাল ধাতব পাত্র বা কলস উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

কলসটি সোনা বা মূল্যবান ধাতব টুকরোয় ভর্তি—এমন গুজব ছড়িয়ে পড়তেই আশেপাশের গ্রামের কয়েকশ মানুষ সেখানে ভিড় জমান। পরিস্থিতি এতটাই হাতের বাইরে চলে যায় যে, উপস্থিত জনতা কলসটি লুটে নেওয়ার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে পুলিশ ও রাজস্ব আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং কলসটি নিজেদের হেফাজতে নেন। আধিকারিকদের মতে, কলসটিতে কিছু বিশেষ ধাতুর টুকরো রয়েছে যা বর্তমানে পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

ঠিক কী ঘটেছিল?

শনিবার সন্ধ্যায় গ্রামের একটি পরিত্যক্ত জমিতে পুজোর কিছু সরঞ্জাম পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। তাঁদের ধারণা হয়, ওই জমির নিচে হয়তো কোনো প্রাচীন গুপ্তধন লুকানো আছে। মুহূর্তের মধ্যে এই খবর ছড়িয়ে পড়লে সেখানে ভিড় বাড়তে থাকে। স্থানীয় তহশিলদার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখতে জেসিবি (JCB) দিয়ে খননকার্য চালানোর সিদ্ধান্ত নেন। খনন শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই প্রায় ১০ ফুট গভীর থেকে একটি বিশাল ধাতব কলস বেরিয়ে আসায় সবাই অবাক হয়ে যান।

কলসের বিবরণ ও বিশৃঙ্খলা:

উদ্ধার হওয়া কলসটি অত্যন্ত প্রাচীন এবং ওজনে বেশ ভারী। প্রায় ২ ফুট উচ্চতা এবং ১.৫ ফুট প্রস্থের এই পাত্রটির ওজন আনুমানিক ১০০ থেকে ১৫০ কিলোগ্রামের মধ্যে। কলসের উপরিভাগে সোনার মতো উজ্জ্বল কিছু ধাতব টুকরো দেখা যাওয়ায় উপস্থিত জনতা হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।

জেসিবি দিয়ে কলসটি উপরে তুলতেই ডজন ডজন মানুষ সেটির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। পুলিশ কর্মীদের বাধা সরিয়ে অনেকে ধাতব টুকরো নিয়ে মাঠের দিকে দৌড়াতে শুরু করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়। পরবর্তীতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে এবং তাঁদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া ধাতব টুকরোগুলো উদ্ধার করে। পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য রামকিশোর মীনা জানিয়েছেন, বিনা অনুমতিতে কে বা কারা এই খনন পরিকল্পনার নেপথ্যে ছিল, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। এটি সত্যিই কোনো প্রাচীন সম্পদ নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিরাপত্তার খাতিরে কলসটি বর্তমানে জেলা ট্রেজারি অফিসে রাখা হয়েছে এবং পুরাতত্ত্ব বিভাগকেও খবর দেওয়া হয়েছে।

গুপ্তধন সংক্রান্ত আইন:

ভারতে মাটির নিচে পাওয়া দাবিহীন সম্পদ নিয়ে কঠোর আইন রয়েছে। ‘ইন্ডিয়ান ট্রেজার ট্রোভ অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, মাটির নিচে ১০ টাকার বেশি মূল্যের কোনো সম্পদ পাওয়া গেলে তা সরকারি সম্পত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। এমন কিছু পাওয়া গেলে তৎক্ষণাৎ জেলা কালেক্টরকে জানানো বাধ্যতামূলক। কালেক্টর সেই সম্পদ সরকারি কোষাগারে জমা রাখেন এবং প্রকৃত মালিকের সন্ধানে বিজ্ঞপ্তি জারি করেন। যদি কোনো বৈধ দাবিদার না পাওয়া যায়, তবে তা সরকারের সম্পত্তি হিসেবে ঘোষিত হয়। গুপ্তধন পাওয়া যাওয়ার পর তা লুকিয়ে রাখা বা চুরি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।

বর্তমানে সিদড়া গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে পুনরায় কোনো অবৈধ খনন না হয়। গ্রামের বয়স্কদের মতে, ওই এলাকায় আগে কখনও এমন খননকাজ হয়নি। ওই অঞ্চলে আরও কলস বা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন আধিকারিকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *