রাজ্যের বাইরে থাকলেও কাটবে না ভোটার নাম! SIR শুনানিতে বড় স্বস্তি – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা SIR (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়া ঘিরে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। এই প্রক্রিয়ায় ভোটারদের দেওয়া তথ্যে সামান্যতম গরমিল বা সন্দেহ দেখা দিলেই নির্বাচন কমিশন সরাসরি শুনানিতে ডাকছে। কিন্তু দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছিল তাঁদের কপালে, যাঁরা কর্মসূত্রে ভিন রাজ্যে বা প্রবাসে থাকেন। হঠাৎ করে শুনানিতে সশরীরে হাজিরা দেওয়া অনেকের পক্ষেই আসাম্ভব। তবে এবার এই উদ্বেগ কাটাতে অভয় দিল নির্বাচন কমিশন।
সশরীরে হাজিরা বাধ্যতামূলক নয়
কমিশনের সাম্প্রতিক নির্দেশিকা অনুযায়ী, যদি কোনো ভোটার কর্মসূত্রে রাজ্যের বাইরে বা দেশের বাইরে থাকেন, তবে তাঁর শুনানিতে সশরীরে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক নয়। তাঁদের পরিবর্তে পরিবারের কোনো নিকটাত্মীয় বা সদস্য শুনানি কেন্দ্রে গিয়ে যাবতীয় তথ্য ও নথি জমা দিতে পারবেন। এতে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই প্রশমিত হবে।
সাথে রাখতে হবে প্রয়োজনীয় নথি
পরিবারের সদস্যকে শুনানি কেন্দ্রে যাওয়ার সময় অবশ্যই নির্দিষ্ট কিছু প্রস্তুতি নিতে হবে:
- নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত ১৩টি নথির মধ্যে যে কোনো একটির আসল এবং ফটোকপি সাথে রাখতে হবে।
- সংশ্লিষ্ট ভোটারের SIR নথি প্রদর্শন করতে হবে।
- যিনি শুনানিতে অংশ নিচ্ছেন, ভোটারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কী, তার প্রমাণ দিতে হবে।
কারা পাবেন এই বিশেষ সুবিধা?
এই নিয়মটি মূলত তাঁদের জন্য কার্যকর করা হয়েছে যাঁরা পেশাগত কারণে নিজের এলাকায় থাকতে পারছেন না। এর আওতায় পড়ছেন:
১. ভিন রাজ্য বা বিদেশে কর্মরত সাধারণ ভোটার।
২. সরকারি কর্মচারী যারা কর্মস্থলে রয়েছেন।
৩. সামরিক ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যবৃন্দ।
বয়স্ক ও অসুস্থদের জন্য আরও সহজ পথ
শুনানি কেন্দ্রে দীর্ঘ লাইন নিয়ে ওঠা বিতর্কের মাঝে কমিশন স্পষ্ট করেছে যে, ৮৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ নাগরিকদের কেন্দ্রে আসার প্রয়োজন নেই। এছাড়া বিশেষভাবে সক্ষম এবং গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। তাঁদের হয়ে পরিবারের কেউ ইআরও (ERO) বা নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে আবেদন জানালেই সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
রাজ্যের এই সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক জলঘোলা চললেও, কমিশনের এই নমনীয় সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের দুশ্চিন্তা অনেকটাই লাঘব করেছে। বিশেষ করে পরিযায়ী শ্রমিক এবং প্রবাসীদের জন্য এটি একটি বড় স্বস্তির খবর।

