রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে শাহের তির্যক মন্তব্যে উত্তাল লোকসভা খারিজ স্পিকারের বিরুদ্ধে আনা বিরোধীদের অনাস্থা প্রস্তাব – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
প্রত্যাশামতোই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাব খারিজ হয়ে গেল। মঙ্গলবার দীর্ঘ বিতর্ক ও আলোচনার পর ধ্বনিভোটের মাধ্যমে এই প্রস্তাবটি নাকচ করে দেন সভার দায়িত্বে থাকা প্রবীণ বিজেপি সাংসদ জগদম্বিকা পাল। ফলে ওম বিড়লাই স্পিকার পদে বহাল থাকছেন।
ভোটাভুটির আগে দুই দিন ধরে সংসদের নিম্নকক্ষে চলে তীব্র বাগ্যুদ্ধ। বিতর্ক চলাকালীন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করার অভিযোগ ওঠে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে। শাহ বলেন, “অনেকে স্পিকারের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। কিন্তু যখন আপনাদের Supreme \titleonly লিডার খোদ সংসদে এসে চোখ মারেন বা প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরেন, সেটা কোন ধরনের আচরণ? এটি স্পষ্টতই প্ররোচনামূলক।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্যে ক্ষোভে ফেটে পড়ে বিরোধী শিবির। তাঁরা ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখান এবং শাহের ক্ষমা প্রার্থনা দাবি করেন। জবাবে শাহ জানান, তাঁর কোনো মন্তব্য সংসদীয় আচরণের পরিপন্থী হলে তা যেন রেকর্ড থেকে বাদ দেওয়া হয়।
এর আগে অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, সংসদে বারবার তাঁর কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমি যখনই প্রধানমন্ত্রীর আপস করা নিয়ে বা নারাভানের বই ও এপস্টেইন ফাইল নিয়ে বলতে চাই, আমাকে থামিয়ে দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী যে আপস করে ফেলেছেন, তা সবার জানা।” পাল্টা জবাবে বিজেপির রবিশঙ্কর প্রসাদ দাবি করেন, স্রেফ একজন নেতার ব্যক্তিগত অহং চরিতার্থ করতেই এই অর্থহীন প্রস্তাব আনা হয়েছে।
অমিত শাহ বক্তব্য শুরু করলে বিরোধীরা পুনরায় বিক্ষোভ দেখান। হট্টগোলের মধ্যেই শাহ বলেন, “স্পিকার দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে। তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অর্থ হলো গণতন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা।” শেষ পর্যন্ত প্রবল উত্তেজনার মধ্যেই ধ্বনিভোটে বিরোধীদের অনাস্থা প্রস্তাবটি খারিজ হয়ে যায়।

