লেটেস্ট নিউজ

রেলের গাফিলতিতে ১২০০ কোটির ধাক্কা: কাঠগড়ায় মন্ত্রক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে ভারতীয় রেল। একদিকে প্রকল্পের দেরি হওয়ায় কয়েকশো কোটি টাকার ঋণের সুদ মেটাতে হচ্ছে, অন্যদিকে বরাত বাতিলের জেরে নতুন করে কাজ শুরু করতে গিয়ে খরচ বেড়েছে কয়েক গুণ। রাজ্যসভায় তৃণমূল সাংসদ সাকেত গোখলের প্রশ্নের লিখিত জবাবে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এই চাঞ্চল্যকর তথ্য স্বীকার করে নিয়েছেন।

লোকসানের খতিয়ান: এক নজরে

প্রকল্পের নাম ক্ষতির কারণ অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ
বান্দ্রা ইস্ট জমি বাণিজ্যিকীকরণ সময়মতো কাজ না হওয়ায় ঋণের সুদ প্রায় ৮৩৫ কোটি টাকা
উধমপুর-শ্রীনগর-বারামুলা প্রকল্প বরাত বাতিল ও বর্ধিত বাজারদর প্রায় ৪৩৪ কোটি টাকা

কেন এই বিপুল অপচয়?

  • সুদের বোঝা: মুম্বইয়ের বান্দ্রা ইস্টে রেলের জমি বাণিজ্যিকীকরণের দায়িত্ব ছিল আরএলডিএ-র ওপর। যাত্রী ভাড়া না বাড়িয়ে আয় বাড়ানোর এই পরিকল্পনা সফল হয়নি। পরবর্তীকালে ইরকন এবং আইআরএফসি-র সঙ্গে চুক্তি হলেও করোনা ও অন্যান্য কারণে কাজ থমকে যায়। ফলে চুক্তির শর্ত মেনে আইআরএফসি-কে প্রায় ৮৩৫ কোটি টাকা সুদ দিতে হয়েছে রেলকে।
  • বরাত বাতিলের মাশুল: কাশ্মীরের উধমপুর-শ্রীনগর-বারামুলা (USBRL) রেল প্রকল্পে টানেল তৈরির কাজ সময়মতো শেষ না হওয়ায় ২০১২ সালের পুরনো বরাত বাতিল করে রেল। নতুন করে ২০১৭ সালে যখন অন্য সংস্থাকে বরাত দেওয়া হয়, ততদিনে বাজারদরের নিরিখে খরচ ৬৭৬ কোটি থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ১,১১০ কোটি টাকারও বেশি। অর্থাৎ, স্রেফ দেরির কারণে অতিরিক্ত ৪৩৪ কোটি টাকা খরচ করতে হয়েছে।

ভিজিলেন্স কমিশনের হস্তক্ষেপ

রেল মন্ত্রকের জবাবে সবথেকে উদ্বেগের বিষয় হলো সেন্ট্রাল ভিজিলেন্স কমিশনের (CVC) সক্রিয়তা। কাশ্মীরের ওই প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ ও আর্থিক গরমিলের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে কমিশনকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, প্রকল্পের এই দীর্ঘসূত্রিতা এবং বিপুল টাকার অপচয় আসলে বড়সড় দুর্নীতিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *