লক্ষ্মীর ভাণ্ডার: নারী ক্ষমতায়নের হাতিয়ার নাকি পরনির্ভরশীলতার ফাঁদ? – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গের বহুল আলোচিত সামাজিক প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বর্তমানে রাজ্যের অর্থনীতি ও রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। লক্ষ লক্ষ মহিলা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন, যা অনেক গৃহবধূর কাছেই একটি স্বাধীন আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও শহরতলির মহিলারা এই অর্থ সন্তানের পড়াশোনা, ওষুধ বা দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে ব্যবহার করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি নগদ হস্তান্তরের ফলে মহিলারা ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন, যা তাঁদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তবে এই প্রকল্প নিয়ে বিতর্কের অবকাশও তৈরি হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, সরাসরি ভাতা প্রদানের ফলে মানুষের মধ্যে কর্মসংস্থানের অনীহা এবং দীর্ঘমেয়াদে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতা বাড়তে পারে। দক্ষতা বৃদ্ধি বা স্থায়ী আয়ের সুযোগ তৈরি না করে কেবল ভাতার ওপর নির্ভরতা অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা। রাজনৈতিক মহলেও এই ইস্যু নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে চাপানউতোর তুঙ্গে। বিরোধীদের মতে এটি ভোটকেন্দ্রিক উদ্যোগ, যদিও শাসকপক্ষ একে নারীর সম্মান ও নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবেই দেখছে।
মাঠপর্যায়ের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কেউ কেউ এই অর্থ দিয়ে ছোট ব্যবসা শুরু করলেও অনেকের ক্ষেত্রেই তা কেবল দৈনন্দিন খরচেই নিঃশেষ হচ্ছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এই প্রকল্প কি সত্যিই দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম, নাকি এটি কেবল সাময়িক স্বস্তি প্রদানের একটি মাধ্যম? বর্তমান প্রেক্ষাপটে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ কেবল একটি ভাতা প্রকল্প নয়, বরং রাজ্যের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর প্রকৃত প্রভাব বুঝতে আরও সময়ের প্রয়োজন।

