লাদাখে সর্বোচ্চ ও শীতলতম ম্যারাথনে বাংলার ঋত্বিক দাস – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নিউজ ডেস্ক
হাড়কাঁপানো ঠান্ডা আর সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৫ হাজার ফুট উচ্চতা। চারদিকে শুধু বরফের চাদর, আর পায়ের নিচে শক্ত হয়ে জমে যাওয়া প্যাংগং হ্রদ। প্রকৃতির এমন এক চরম প্রতিকূল পরিবেশেই অসাধ্য সাধন করলেন বাংলার ভূমিপুত্র ঋত্বিক দাস। সম্প্রতি লাদাখে আয়োজিত বিশ্বের সর্বোচ্চ ও শীতলতম ‘প্যাংগং ফ্রোজেন লেক ম্যারাথন’-এ অংশগ্রহণ করে এক অনন্য নজির গড়লেন তিনি।
গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস স্বীকৃত এই ম্যারাথনের চতুর্থ আসরটি বসেছিল গত ২৫ ফেব্রুয়ারি। ভারতের প্রাক্তন আইস হকি খেলোয়াড় চম্বা সেতানের মস্তিষ্কপ্রসূত এই আয়োজনে হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন। মাইনাস ১৫ থেকে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যে দেশ-বিদেশের অসংখ্য প্রতিযোগী এই মরণজয়ী দৌড়ে শামিল হয়েছিলেন। বেঙ্গল ন্যাশনাল চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (BNCCI) পদাধিকারী ঋত্বিক দাস সেই কঠিন লড়াইয়ে বাংলার প্রতিনিধিত্ব করে সকলকে গর্বিত করেছেন।
লাদাখ থেকে টেলিফোনে ঋত্বিকবাবু তাঁর রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিতে গিয়ে জানান, “শূন্যের অনেক নিচে থাকা তাপমাত্রায় এই দৌড় চালানো ছিল এক চরম চ্যালেঞ্জ। ফুসফুসে হিমশীতল বাতাস আর বরফের ওপর ভারসাম্য বজায় রাখা মোটেও সহজ ছিল না।” তবে এই উদ্যোগকে তিনি কেবল একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখতে নারাজ। তাঁর মতে, হিমালয়ের এই বাস্তুসংস্থান রক্ষা এবং পরিবেশ সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে এই ম্যারাথন এক শক্তিশালী মাধ্যম।
বাংলার ক্রীড়ামহলে এই সাফল্যের খবর পৌঁছাতেই নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। ঋত্বিক দাসের প্রস্তাব, পরিবেশ ও ক্রীড়াকে এক সুতোয় বেঁধে পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন, জঙ্গলমহল কিংবা উত্তরবঙ্গের পার্বত্য অঞ্চলেও এমন রোমাঞ্চকর ম্যারাথন আয়োজন করা সম্ভব। এতে পর্যটন শিল্পের প্রসারের পাশাপাশি বাস্তুসংস্থান রক্ষার বার্তাও সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে। প্রতিকূলতাকে জয় করে ঋত্বিকের এই ফেরা আগামী দিনে বাংলার অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় মানুষদের কাছে এক নতুন অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

