লেটেস্ট নিউজ

লাভ জিহাদ রুখতে গুজরাটে কঠোর পদক্ষেপ, বিয়েতে বাবা-মায়ের অনুমতি ছাড়া মিলবে না সরকারি স্বীকৃতি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

গুজরাটে বিয়ের রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতিতে এক আমূল ও নজিরবিহীন পরিবর্তন আনতে চলেছে রাজ্যের বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেলের নির্দেশে বিধানসভায় পেশ করা হয়েছে ‘গুজরাট বিবাহ নথিভুক্তি (সংশোধনী) বিল ২০২৬’। নতুন এই প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, এখন থেকে প্রেম করে বিয়ে বা ভিনধর্মে বিয়ের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র নিজেদের সিদ্ধান্তই যথেষ্ট নয়, ম্যারেজ রেজিস্ট্রারের দফতরে বিয়ে নথিভুক্ত করতে হলে পাত্র-পাত্রীর বাবা-মায়ের লিখিত সম্মতি বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

কেন এই কড়াকড়ি? প্রশাসনের বিস্ফোরক দাবি

রাজ্যের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হর্ষ সাঙ্গভি বিধানসভায় এই বিলের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সরাসরি ‘লাভ জিহাদ’ প্রসঙ্গের অবতারণা করেন। তাঁর দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এমন বহু তথ্য সামনে এসেছে যেখানে হিন্দু তরুণীদের প্রলোভন দেখিয়ে বা পরিচয় গোপন করে বিয়ে করা হচ্ছে। বিশেষ করে পঞ্চমহল জেলা সম্পর্কে তিনি একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য পেশ করেন। মন্ত্রী জানান, ওই জেলায় যেখানে মুসলিম জনসংখ্যা নগণ্য এবং কোনো মসজিদ নেই, সেখান থেকেও হিন্দু-মুসলিম বিয়ের প্রচুর রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে। এই ধরনের ঘটনাকে ‘লাভ জিহাদ’ হিসেবেই দেখছে সরকার।

আইনের নতুন প্যাঁচ: আবেদন করলেই খবর যাবে বাড়িতে

প্রস্তাবিত সংশোধনীতে বলা হয়েছে, ম্যারেজ রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন জমা পড়ার ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রি অফিস থেকে সরাসরি পাত্র-পাত্রীর বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। আবেদনে বাবা-মায়ের নাম, বর্তমান ঠিকানা এবং সচল মোবাইল নম্বর দেওয়া বাধ্যতামূলক। যদি অভিভাবকরা এই বিয়েতে সম্মতি দেন, তবেই বিবাহটি আইনিভাবে নথিভুক্ত করা হবে। মূলত নারীর মর্যাদা রক্ষা এবং সনাতন ধর্মের ঐতিহ্য বজায় রাখতেই এই জনস্বার্থবাহী সিদ্ধান্ত বলে দাবি করেছে প্রশাসন।

পাতিদারদের দীর্ঘদিনের দাবি ও সরকারি পদক্ষেপ

উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরে গুজরাটের শক্তিশালী গোষ্ঠী ‘পাতিদার আনামত আন্দোলন সমিতি’ রাজ্য সরকারের কাছে এই দাবি জানিয়েছিল। তাদের অভিযোগ ছিল, বাবা-মায়ের অমতে পালিয়ে গিয়ে বিয়ের ফলে সামাজিক ও পারিবারিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল আইনমন্ত্রীকে নির্দেশ দেন বিষয়টি খতিয়ে দেখতে। প্রায় ৩০টি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর এই বিলের খসড়া তৈরি করা হয়েছে।

জনমত যাচাইয়ের সুযোগ

তবে সরকার এখনই এই বিলটি তড়িঘড়ি পাস করাচ্ছে না। গণতান্ত্রিক পদ্ধতি মেনে বিলটির বিভিন্ন ধারা নিয়ে আগামী এক মাস সাধারণ মানুষ, সমাজকর্মী এবং জনপ্রতিনিধিদের মতামত গ্রহণ করা হবে। সবার পরামর্শ পাওয়ার পরই চূড়ান্ত রূপ নেবে এই বিতর্কিত অথচ চর্চিত আইন। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, গুজরাটের এই পদক্ষেপ আগামী দিনে অন্যান্য বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির জন্যও পথপ্রদর্শক হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *