শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ চুরির দায় নিলেন লুভর মিউজিয়ামের অধিকর্তা, পদত্যাগ করলেন লরেন্স ডেস কার্স – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ বলে পরিচিত প্যারিসের বিখ্যাত লুভর মিউজিয়াম থেকে নেপোলিয়ন আমলের অমূল্য রত্ন চুরির ঘটনায় শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করলেন মিউজিয়ামের অধিকর্তা লরেন্স ডেস কার্স। গত বছর অক্টোবরে ঘটে যাওয়া এই চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনাকে ‘শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ চুরি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের রাজকীয় গয়না খোয়া যাওয়ার দায় কাঁধে নিয়েই তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন।
৮ মিনিটে ১০০ মিলিয়ন ডলার উধাও
২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর দিনের আলোয় লুভর মিউজিয়ামের অ্যাপোলো গ্যালারিতে হানা দেয় চার দুষ্কৃতী। নির্মাণ শ্রমিকের ছদ্মবেশে এসে একটি যান্ত্রিক মই ব্যবহার করে তারা মিউজিয়ামের ব্যালকনি দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। মাত্র ৮ মিনিটের অপারেশনে (যার মধ্যে মাত্র ৪ মিনিট তারা মিউজিয়ামের ভেতরে ছিল) নেপোলিয়ন ৩ এবং সম্রাজ্ঞী ইউজিনির ব্যবহৃত হিরে জহরত খচিত মুকুট, ব্রোচ সহ মোট ৮টি অমূল্য রত্ন চুরি করে পালায় তারা। স্কুটারে চড়ে চম্পট দেওয়া সেই চোরদের এবং চুরি যাওয়া গয়নার হদিশ আজও পুরোপুরি মেলেনি।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঙ্কালসার চেহারা
এই ঘটনার পর লরেন্স ডেস কার্স স্বীকার করে নেন যে, বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই মিউজিয়ামের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত সেকেলে এবং ত্রুটিপূর্ণ ছিল। অনেক গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারি ছিল না, এমনকি যে ব্যালকনি দিয়ে চোরেরা প্রবেশ করেছিল, সেখানেও কোনো ক্যামেরা লাগানো ছিল না। এই গাফিলতির কারণেই ৮৮ মিলিয়ন ইউরো বা প্রায় ১০২ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ঐতিহাসিক সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁ-র পদক্ষেপ
লরেন্স ডেস কার্সের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ। এলিসি প্যালেস থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট এই পদত্যাগকে ‘দায়বদ্ধতার পরিচয়’ বলে উল্লেখ করেছেন। ম্যাক্রঁ জানিয়েছেন, বর্তমানে লুভর মিউজিয়ামের আধুনিকীকরণ এবং নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য নতুন ও শক্তিশালী নেতৃত্বের প্রয়োজন। তবে লরেন্সের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে তাকে জি-৭ প্রেসিডেন্সির অধীনে বিশ্বখ্যাত মিউজিয়ামগুলোর মধ্যে সমন্বয় রক্ষার একটি নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সংকটে লুভর মিউজিয়াম
২০২৪ সালে প্রায় ৮৭ লক্ষ পর্যটক লুভর মিউজিয়াম পরিদর্শন করেছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে টিকিট জালিয়াতি, ছাদে জল পড়া এবং কর্মীদের ধর্মঘটের মতো একাধিক সমস্যায় জর্জরিত ছিল এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি। তার ওপর এই বিশাল চুরির ঘটনা মিউজিয়ামের বিশ্বস্ততা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। বর্তমানে চুরি যাওয়া সেই অমূল্য ঐতিহাসিক রত্নগুলো উদ্ধারের জন্য আন্তর্জাতিক স্তরে তদন্ত জারি রয়েছে।

