শিরদাঁড়া দিয়ে নয় এবার প্রতিবাদ হবে মাথা দিয়ে, মধ্যপ্রদেশ বিধানসভায় কংগ্রেস বিধায়কের আজব কাণ্ড – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নিউজ ডেস্ক
রাজনীতিতে প্রতিবাদের কতই না ধরণ দেখা যায়। কখনো ধরণা, কখনো স্লোগান, আবার কখনো বা পদযাত্রা। কিন্তু মধ্যপ্রদেশ বিধানসভা চত্বরে শুক্রবার যা ঘটল, তা দেখে চক্ষু চড়কগাছ আমজনতা থেকে শুরু করে পোড়খাওয়া রাজনীতিবিদদেরও। রীতিমতো যোগাসনের ভঙ্গিতে মাথা নিচে আর পা উপরে দিয়ে ‘শীর্ষাসন’ করে প্রতিবাদ জানালেন কংগ্রেস বিধায়ক বাবু জান্ডেল। একে যোগাসন নয়, বরং বলা ভালো ‘বিরোধাসন’।
কেন এই উলটপুরাণ
শিওপুরের কংগ্রেস বিধায়ক বাবু জান্ডেলের অভিযোগ, বর্তমান সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যে মামলা সাজাচ্ছে। তিনি দাবি করেছেন, গত এক মাসেই তাঁর নামে তিনটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। সব মিলিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫-তে। কখনও গোবংশ নিয়ে জেলাশাসকের দপ্তর ঘেরাও, আবার কখনও শিবরাত্রির অনুষ্ঠানে বাজি ফাটানো— তুচ্ছাতিতুচ্ছ কারণে তাঁকে আইনি জালে জড়ানো হচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ।
বিধানসভায় হুলুস্থুল
শুক্রবার বিধানসভার অধিবেশন চলাকালীন কংগ্রেস বিধায়ক দলের সচেতক সোহনলাল বাল্মীক এবং বিধায়ক পঙ্কজ উপাধ্যায় এই বিষয়টি উত্থাপন করেন। তাঁদের দাবি, জান্ডেলকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ফাঁসানো হচ্ছে এবং এই মামলাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে অবিলম্বে তা খারিজ করা দরকার। কিন্তু সদনে শুধুমাত্র মৌখিক আশ্বাস মেলায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন বাবু জান্ডেল। এরপরই বিধানসভা চত্বরে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তির সামনে গিয়ে তিনি শীর্ষাসন শুরু করেন। বিধায়কের এই অদ্ভুত প্রতিবাদের ভঙ্গি দেখতে ভিড় জমে যায় গোটা চত্বরে।
শিবরাত্রির সেই ঘটনা
বিতর্কের মূলে রয়েছে গত ১৫ ফেব্রুয়ারির একটি ঘটনা। শিবরাত্রি উপলক্ষে একটি ধর্মীয় শোভাযাত্রা বের করেছিলেন বাবু জান্ডেল। সেখানে বিপুল সংখ্যক সাধু-সন্ত ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পুলিশের অভিযোগ, সেই শোভাযাত্রায় বিধায়ক ‘হর্ষ ফায়ারিং’ বা আনন্দ উদযাপনে গুলি চালিয়েছেন।
পাল্টা সাফাই দিয়ে বিধায়ক জানান, ওইদিন সম্পূর্ণ ধর্মীয় রীতি মেনে অনুষ্ঠান হচ্ছিল। তিনি নিজে ঘোড়ায় সওয়ার ছিলেন এবং তাঁর কাছে একটি বৈধ ‘চিড়িমার’ বন্দুক ছিল। তিনি মাত্র একটি ফাঁকা আওয়াজ করেছিলেন এবং তাঁর কাছে কোনো অবৈধ অস্ত্র ছিল না। জান্ডেলের দাবি, পুলিশ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিষয়টিকে বড় করে দেখাচ্ছে।

